স্কয়ার ফার্মা লিমিটেড গত অর্থবছরে ৮,৬০৬ কোটি টাকার মোট ব্যবসা সম্পন্ন করে দেশের ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। এই ফলাফলের ভিত্তিতে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১,১৫২ কোটি টাকার রেকর্ড লভ্যাংশ ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা কোম্পানির শেয়ার মূল্যের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি করবে। লভ্যাংশের পরিমাণ পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ, যা কোম্পানির আর্থিক স্বাস্থ্যের উন্নতি এবং মুনাফা বৃদ্ধির স্পষ্ট সূচক হিসেবে বিবেচিত। এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে শেয়ারবাজারে স্কয়ার ফার্মার শেয়ার মূল্যে তীব্র উত্থান দেখা গিয়েছে, যা দেশের ফার্মা সেক্টরের সামগ্রিক প্রবণতাকে উজ্জীবিত করেছে।
স্কয়ার ফার্মা প্রতিষ্ঠার পর থেকে ধারাবাহিকভাবে গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চমানের জেনেরিক ও ব্র্যান্ডেড ঔষধ সরবরাহ করে আসছে। গত পাঁচ বছরে কোম্পানির বার্ষিক বিক্রয় ৪০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং নতুন উৎপাদন সুবিধা ও গুণগত মানের সার্টিফিকেশন অর্জনের মাধ্যমে বাজার শেয়ার সম্প্রসারিত করেছে। পূর্বে ২০২২ অর্থবছরে ৬৫০ কোটি টাকার লভ্যাংশ প্রদান করা হলেও, এই বছর লভ্যাংশের পরিমাণে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি কোম্পানির মুনাফা মার্জিনের উন্নতি এবং কার্যকরী খরচ হ্রাসের ফলাফল। এছাড়া, সরকারী ঔষধ নীতি ও স্বাস্থ্য বীমা পরিকল্পনার সম্প্রসারণ স্কয়ার ফার্মার পণ্য চাহিদা বাড়িয়ে তুলেছে, যা লভ্যাংশ বৃদ্ধির পেছনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ।
কোম্পানির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ রশিদ হক ঘোষণার পর শেয়ারহোল্ডারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “শেয়ারহোল্ডারদের অব্যাহত সমর্থন ও বিশ্বাসই আমাদের এই সাফল্যের মূল চালিকাশক্তি। আমরা ভবিষ্যতে গবেষণা ও উৎপাদনে আরও বিনিয়োগ করে দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতের উন্নয়নে অবদান রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, রেকর্ড লভ্যাংশ স্কয়ার ফার্মার আর্থিক স্থিতিশীলতা ও শেয়ারহোল্ডার রিটার্নের দিক থেকে ইতিবাচক সংকেত। বিনিয়োগকারীরা এই ঘোষণাকে কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদী বৃদ্ধির সম্ভাবনা নির্দেশক হিসেবে দেখছেন এবং শেয়ার ক্রয় বাড়ানোর সম্ভাবনা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে, সাধারণ জনগণও এই ধরনের লভ্যাংশের মাধ্যমে দেশের ফার্মা শিল্পের স্বাস্থ্যের উন্নতি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রত্যাশা প্রকাশ করেছে।
বিকাশমান ফার্মা শিল্পের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যালস রেজিস্ট্রি (বিএফআর) স্কয়ার ফার্মার আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে নিশ্চিত করেছে যে লভ্যাংশের বিতরণ প্রাসঙ্গিক আইন ও নিয়মাবলী অনুসারে সম্পন্ন হয়েছে। ভবিষ্যতে কোম্পানি নতুন গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন, উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করেছে। এছাড়া, শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ধারাবাহিক লভ্যাংশ নীতি বজায় রাখতে কোম্পানি আর্থিক শৃঙ্খলা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো স্কয়ার ফার্মাকে দেশের শীর্ষস্থানীয় ফার্মাসিউটিক্যাল সংস্থা হিসেবে অবস্থান সুদৃঢ় করতে এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সহায়তা করবে।