গত মাসে ঢাকা শহরের এক সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার শিকারের সংখ্যা রেকর্ড উচ্চে পৌঁছেছে; একদিনে মাত্র একশো ছয়টি মামলা দাখিল করা হয়েছে। এই তথ্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জরুরি প্রতিবেদন থেকে প্রকাশিত হয়েছে এবং দেশের সর্বজনীন নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ করেছে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করছেন যে, সহিংসতার তীব্রতা ও বিস্তার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিকারের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি তীব্রতর হচ্ছে, যা সামাজিক উন্নয়নের জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করছে।

এই সমস্যার পটভূমি বহুস্তরীয়। ঐতিহাসিকভাবে পরিবারিক গোপনীয়তা ও সামাজিক কলঙ্কের কারণে শিকারের কণ্ঠস্বর দমিয়ে রাখা হয়েছে। তদুপরি, আইনি কাঠামোতে অপর্যাপ্ত শাস্তি ও ধীরগতি বিচার প্রক্রিয়া সহিংসতার পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে তুলেছে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি দশটি গর্ভবতী নারীর মধ্যে দুইজন গর্ভাবস্থায় শারীরিক বা মানসিক নির্যাতনের শিকার হন, যা ভ্রূণের স্বাস্থ্যের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। এসব তথ্য দেশের জনস্বাস্থ্যের সূচকে নেতিবাচক পরিবর্তন আনে।

সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা এই পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। নারী ও শিশু অধিকার সংস্থার সভাপতি বলেছেন, “শিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করা না হলে সমাজের মৌলিক ন্যায়বিচার নষ্ট হবে।” অপরদিকে, আইন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমান আইন প্রয়োগে গ্যাপ রয়েছে এবং দ্রুত সংশোধনের প্রয়োজন। সাধারণ জনগণও সামাজিক মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে; অনেকেই সহিংসতার শিকারদের সমর্থনে প্রতিবাদ রেলি ও সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন শুরু করেছে।

অধিকাংশ কর্তৃপক্ষ এখন ত্বরিত পদক্ষেপ গ্রহণে অগ্রসর। সরকার নতুন ‘নারী ও শিশু সুরক্ষা আইন’ প্রণয়ন করেছে, যা শাস্তি বৃদ্ধি, দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া এবং শিকারদের জন্য বিশেষ সুরক্ষা কেন্দ্র স্থাপনকে অন্তর্ভুক্ত করবে। পাশাপাশি, পুলিশ বিভাগে বিশেষ প্রশিক্ষণ মডিউল চালু করা হয়েছে যাতে প্রথমিক সাড়া ও প্রমাণ সংগ্রহে দক্ষতা বৃদ্ধি পায়। ভবিষ্যতে, জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত মনিটরিং সিস্টেম গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যা সহিংসতার ঘটনা রিয়েল-টাইমে ট্র্যাক করে দ্রুত হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করবে। এই উদ্যোগগুলো যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা কমিয়ে সমাজের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও সুস্থতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।