গতকাল বুধবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে কদমতলী থানা এলাকার প্রধান সড়কে একটি দুঃখজনক ট্রাফিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুইজন অটোরিকশা চালক যাত্রীর অপেক্ষায় ছিলেন; হঠাৎ একটি লোডেড ট্রাক সড়কের বিপরীত দিক থেকে দ্রুতগতিতে প্রবেশ করে তাদের গন্তব্যে আঘাত হানে। ট্রাকের গতি ও অটোরিকশার হঠাৎ থামার ফলে সংঘর্ষের তীব্রতা বৃদ্ধি পায় এবং দুজন চালকই তৎক্ষণাৎ প্রাণ হারান। ঘটনাস্থলে উপস্থিত জরুরি সেবা দল দ্রুত পৌঁছে আহতদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করে, তবে শোকের মুহূর্তে দুজনেরই প্রাণহানি নিশ্চিত হয়। এই দুর্ঘটনা রাতের অন্ধকারে সড়কের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি ও অযৌক্তিক গতি চালনার পুনরাবৃত্তি সমস্যাকে উন্মোচিত করে।

এই সড়কটি শহরের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্রের সংযোগস্থল, যেখানে দিন-রাত ট্রাফিকের চাপ সর্বোচ্চ। গত কয়েক মাসে একই সড়কে অতিরিক্ত গতি, অপ্রতুল সিগন্যাল ব্যবস্থা এবং অপর্যাপ্ত রোড সাইনেজের কারণে বহু ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় পরিবহন বিভাগ পূর্বে এই সড়কের জন্য গতি সীমা নির্ধারণের পরিকল্পনা করলেও, পর্যাপ্ত পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োগের অভাবে তা কার্যকর হয়নি। এছাড়া, অটোরিকশা চালকদের জন্য নির্দিষ্ট অপেক্ষা স্থান না থাকায় তারা প্রায়ই সড়কের মাঝখানে থেমে যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করে, যা ট্রাফিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়।

ঘটনার পর কদমতলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জামাল হোসেন প্রথম আলোকে জানান, “দুর্ঘটনা স্থানে গতি সীমা ৫০ কিমি/ঘণ্টা নির্ধারিত ছিল, তবে ট্রাকের গতি তা অতিক্রম করেছিল। গৃহীত প্রমাণের ভিত্তিতে ট্রাকের চালককে গতি লঙ্ঘনের জন্য আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” ঘটনাস্থলে উপস্থিত একজন সাক্ষী বলেন, “ট্রাকটি হঠাৎই গতি বাড়িয়ে সোজা অটোরিকশার দিকে এগিয়ে আসে, চালকরা কোনো সতর্কতা দিতে পারেনি।” মৃত অটোরিকশা চালকদের পরিবারে শোকের ছায়া ছড়িয়ে আছে; তারা জানান, “দুইজনই পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী, তাদের আকস্মিক মৃত্যু আমাদের জীবনের ভিত্তি নষ্ট করেছে।” স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে প্রতিবাদে মুখর হয়েছেন।

অধিকর্তারা ঘটনাটির পরিপ্রেক্ষিতে জরুরি তদন্ত শুরু করে এবং সড়কের গতি সীমা কঠোরভাবে প্রয়োগের জন্য অতিরিক্ত রাডার গেজ স্থাপন করা হবে। ট্রাফিক পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, অটোরিকশা চালকদের জন্য নির্দিষ্ট অপেক্ষা এলাকা তৈরি করা এবং রোড সাইনেজের পুনর্নবীকরণ করা হবে। এছাড়া, ট্রাক চালকদের জন্য গতি নিয়ন্ত্রণের প্রশিক্ষণ ও জরুরি শাস্তি বিধানকে শক্তিশালী করা হবে। কদমতলী থানা ও স্থানীয় প্রশাসন একত্রে একটি সচেতনতা ক্যাম্পেইন চালু করবে, যাতে সড়ক নিরাপত্তা, গতি সীমা ও অটোরিকশা চালকদের সুরক্ষার গুরুত্ব জনসাধারণের মধ্যে পৌঁছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুঃখজনক ঘটনা রোধে সকল সংশ্লিষ্ট সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টা এবং কঠোর আইন প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা পুনরায় জোর দিয়ে বলা হয়েছে।