মন্ত্রণালয় অবিলম্বে জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলোর ডিজিটাল রূপান্তরের জন্য নতুন নীতি ঘোষণার মাধ্যমে সংবাদমাধ্যমের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করেছে। এই নীতির অধীনে সকল প্রকাশনা সংস্থা ই-সংবাদপত্রের জন্য একক প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধন করতে হবে এবং প্রিন্ট সংস্করণে নির্দিষ্ট পরিমাণে হ্রাসের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সরকারী ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশের শীর্ষ দশটি দৈনিকের ই-সংস্করণ চালু হবে এবং পাঠকগণ অনলাইন মাধ্যমে সহজে প্রবেশাধিকার পাবে। এই পদক্ষেপটি পাঠকের তথ্যপ্রাপ্তির গতি বৃদ্ধি এবং পরিবেশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
পত্রিকাখাতের এই রূপান্তরের পটভূমি বহু বছর আগে থেকেই গড়ে উঠেছে। গত দশকে ডিজিটাল মিডিয়ার দ্রুত বিকাশের ফলে প্রিন্টের বিক্রয় ধারাবাহিকভাবে হ্রাস পেয়েছে এবং বিজ্ঞাপনদাতারা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন। পূর্বে কিছু প্রকাশনা সংস্থা স্বতন্ত্রভাবে ই-সংস্করণ চালু করলেও প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে তা ব্যাপক সফলতা অর্জন করতে পারেনি। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা দেখায় যে, সরকারী সমর্থন ও নীতি নির্ধারণের মাধ্যমে ডিজিটাল রূপান্তর দ্রুততর হয় এবং পাঠকের অভ্যাসে পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়।
এই নীতির উপর প্রকাশনা সংস্থার প্রধান সম্পাদক, সাংবাদিক সমিতি ও পাঠক গোষ্ঠীর বিভিন্ন মতামত প্রকাশ পেয়েছে। বেশিরভাগ সম্পাদক রূপান্তরের জন্য সরকারী সহায়তা স্বাগত জানিয়েছেন এবং প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি সহায়তার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেছেন। কিছু সাংবাদিক উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, দ্রুত ডিজিটালায়ন কর্মীসংখ্যা হ্রাস এবং কর্মসংস্থান সংকটের দিকে নিয়ে যেতে পারে। পাঠকগণ ইন্টারনেটের মাধ্যমে দ্রুত সংবাদ পাওয়ার সুবিধা পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করেছেন, তবে গ্রামীণ অঞ্চলের ইন্টারনেট সংযোগের সীমাবদ্ধতা নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করা হয়েছে। বিজ্ঞাপনদাতারা নতুন প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপন খরচের কাঠামো ও রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্টের স্পষ্টতা চেয়েছেন।
কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে ই-সংবাদপত্রের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার কাজ শুরু করেছে এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর জন্য প্রশিক্ষণ কর্মশালা পরিচালনা করবে। সরকারী তহবিলের মাধ্যমে ছোট আকারের প্রকাশনা সংস্থাগুলোকে প্রযুক্তি আপগ্রেডে সহায়তা প্রদান করা হবে এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ নীতি প্রণয়ন করা হবে। আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের সব দৈনিক পত্রিকাকে হাই-স্পিড ইন্টারনেটের সঙ্গে সংযুক্ত করা এবং পাঠকের জন্য মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো দেশের তথ্যপ্রাপ্তি ব্যবস্থা আধুনিকায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টির নতুন সুযোগ এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সংবাদমাধ্যম গড়ে তোলার লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে।