বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক কমিশন (বিটিআরসি) গত সপ্তাহে মোবাইল অপারেটরদের প্রতি এক স্পষ্ট আহ্বান জানায় যে, তরঙ্গ নবায়ন ব্যয়কে আরও যৌক্তিক ও স্বচ্ছ করতে ত্বরিত পদক্ষেপ নিতে হবে। এই আহ্বানটি দেশের টেলিকম সেক্টরের আর্থিক ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি গ্রাহকদের সেবা মান উন্নয়নের জন্য জরুরি হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। বিটিআরসির এই নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বর্তমান নবায়ন ফি প্রায়শই বাজারের বাস্তব পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, ফলে অপারেটরদের লাভজনকতা ও বিনিয়োগের সক্ষমতা প্রভাবিত হচ্ছে।

তরঙ্গ নবায়ন ব্যয়ের বিষয়টি দীর্ঘদিনের আলোচনার বিষয়। ২০১২ সালে প্রথমবারের মতো স্পেকট্রাম নিলামের মাধ্যমে ৩৫০০ মেগাহার্জের অতিরিক্ত ফ্রিকোয়েন্সি অধিগ্রহণের পর থেকে, অপারেটরগুলোকে উচ্চ ফি প্রদান করতে হয়েছে। ২০১৯ ও ২০২২ সালের পুনর্নবায়ন চক্রে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে বহুবার সমালোচনার মুখে পড়ে। বিশেষ করে, আন্তর্জাতিক তুলনায় বাংলাদেশের স্পেকট্রাম ফি তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায়, দেশীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকারীর মনোভাব প্রভাবিত হয়েছে। এই পটভূমিতে বিটিআরসির বর্তমান আহ্বানটি পূর্বের নীতি সমালোচনার প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা যায়।

বিটিআরসির চেয়ারম্যানের মতে, “তরঙ্গ নবায়ন ব্যয়কে বাজারভিত্তিক ও স্বচ্ছ করে তোলা আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার” এবং তিনি অপারেটরদের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি যুক্তিসঙ্গত ফি কাঠামো গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছেন। মোবাইল অপারেটরদের প্রতিনিধিরা ব্যয়ের হ্রাসের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছেন যে, কম ফি গ্রাহকদের টারিফে হ্রাস ঘটাবে এবং সেবা মান উন্নত করবে। তবে কিছু অপারেটর উচ্চ ফি বজায় রাখার পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন, কারণ তারা ইতিমধ্যে বিশাল মূলধনী বিনিয়োগের মাধ্যমে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করেছে। ভোক্তা অধিকার সংস্থাগুলোও এই আহ্বানকে স্বাগত জানিয়ে উল্লেখ করেছে যে, যুক্তিসঙ্গত ফি গ্রাহকের আর্থিক বোঝা কমাবে এবং ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি ত্বরান্বিত করবে।

বিটিআরসি এখনই একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করে তরঙ্গ নবায়ন ফি পুনর্মূল্যায়নের কাজ শুরু করেছে। এই টাস্কফোর্সে শিল্প বিশেষজ্ঞ, অর্থনীতিবিদ এবং ভোক্তা প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং তারা আগামী ছয় মাসের মধ্যে একটি প্রস্তাবনা প্রস্তুত করবে। প্রস্তাবনা অনুমোদনের পর, সংশ্লিষ্ট বিধিমালায় সংশোধন আনা হবে এবং নতুন ফি কাঠামো ২০২৫ সালের শেষের মধ্যে কার্যকর করা হবে বলে লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে টেলিকম সেক্টরের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং দেশের ডিজিটাল রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করা সম্ভব হবে।