ইলন মাস্কের নেতৃত্বাধীন নিউরালিংক কোম্পানি টেলিপ্যাথি ও ব্লাইন্ডসাইট নামের দু’টি ব্রেন‑কম্পিউটার ইন্টারফেস (বিসিআই) প্রযুক্তি ভিত্তিক চিপ বাজারে আনতে প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে প্রকাশ পেয়েছে। এই চিপগুলো মস্তিষ্কের সিগন্যালকে সরাসরি ডিজিটাল ডিভাইসের সঙ্গে সংযুক্ত করে মানব মস্তিষ্কের অদৃশ্য ক্ষমতাকে ব্যবহারযোগ্য তথ্য প্রবাহে রূপান্তর করবে। টেলিপ্যাথি চিপের মাধ্যমে চিন্তা‑চিন্তার সরাসরি আদান‑প্রদান এবং ব্লাইন্ডসাইট চিপের মাধ্যমে অন্ধ ব্যক্তির দৃষ্টিশক্তি পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে বলে বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তি বিশারদরা আশাবাদী। দেশের বিজ্ঞান‑প্রযুক্তি নীতি ও মানবিক উন্নয়নের দৃষ্টিকোণ থেকে এই উদ্যোগের তাৎক্ষণিক গুরুত্ব অপরিসীম।
নিউরালিংক ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে মস্তিষ্ক‑কম্পিউটার সংযোগের গবেষণায় অগ্রগতি সাধন করে আসছে। পূর্বে প্রাথমিক স্তরের পরীক্ষামূলক চিপ মানব স্বেচ্ছাসেবকদের মস্তিষ্কে স্থাপন করে স্নায়ু‑চালিত রোবট আর্ম নিয়ন্ত্রণের সফলতা অর্জন করা হয়েছে। এই অভিজ্ঞতা ও ডেটা বিশ্লেষণের ভিত্তিতে কোম্পানি এখন টেলিপ্যাথি ও ব্লাইন্ডসাইটের জন্য উচ্চতর রেজোলিউশন, কম শক্তি ব্যবহার এবং দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি ক্ষমতা সম্পন্ন চিপের নকশা সম্পন্ন করেছে। তাছাড়া, চিপের সুরক্ষা ও গোপনীয়তা রক্ষার জন্য এনক্রিপশন প্রযুক্তি ও রিয়েল‑টাইম মনিটরিং সিস্টেম যুক্ত করা হয়েছে।
বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায়ের বেশিরভাগই এই প্রযুক্তিকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিপ্লবী বলে স্বীকৃতি দিয়েছে। নিউরালিংকের প্রধান বিজ্ঞানী ড. রাহুল চৌধুরী উল্লেখ করেছেন, “টেলিপ্যাথি চিপের মাধ্যমে ভাষা প্রতিবন্ধকতা, শারীরিক অক্ষমতা ও মানসিক রোগের চিকিৎসা নতুন মাত্রা পাবে।” অন্যদিকে, দৃষ্টিহীন ব্যক্তিদের জন্য ব্লাইন্ডসাইট চিপের সম্ভাবনা নিয়ে দৃষ্টান্তমূলক গবেষণা চালু হয়েছে। তবে কিছু নৈতিক সমালোচক সতর্কতা প্রকাশ করে বলেছেন, “মস্তিষ্কের সরাসরি তথ্য প্রবাহের নিয়ন্ত্রণে গোপনীয়তা ও দুর্ব্যবহার রোধে কঠোর আইন প্রয়োজন।” সাধারণ জনগণের মধ্যে এই প্রযুক্তি সম্পর্কে জোরালো আগ্রহ দেখা যাচ্ছে; সামাজিক মিডিয়ায় বহু আলোচনা ও প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে।
বাংলাদেশে এই ধরনের উন্নত প্রযুক্তি প্রয়োগের জন্য সরকার ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় সাধন করছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় যৌথভাবে নিরাপত্তা মানদণ্ড নির্ধারণের জন্য বিশেষ কমিটি গঠন করেছে। কমিটি চিপের ক্লিনিকাল ট্রায়াল, ডেটা সুরক্ষা ও নৈতিক দিকনির্দেশনা নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করবে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখবে। ভবিষ্যতে, যদি নিয়ন্ত্রক অনুমোদন পায়, তবে নিউরালিংকের চিপগুলো দেশের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের সঙ্গে সহযোগিতায় প্রথমে ক্লিনিকাল পরীক্ষার মাধ্যমে প্রয়োগ করা হবে, যা মানব মস্তিষ্কের ক্ষমতা বাড়িয়ে দেশের বিজ্ঞান‑প্রযুক্তি উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।