ব্রিটিশ অনুবাদে এক হাজার বছরের পুরনো জাপানি উপন্যাস ‘দ্য টেল অব গেঞ্জি’ আজ বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো প্রকাশিত হয়েছে। হেইয়ান যুগের (৯ম‑১২শ শতাব্দী) মধ্যভাগে রচিত এই মহাকাব্যিক রচনা ১,০০০ পৃষ্ঠার বেশি বিশাল ইংরেজি অনুবাদে প্রকাশিত হওয়ায় সাহিত্য জগতে বিশাল আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রকাশনা সংস্থা এই অনুবাদকে বাংলা ভাষায় উপস্থাপন করে পাঠকদের কাছে ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক দৃষ্টিকোণ থেকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এনে দিতে চায়। এই প্রকাশনা আন্তর্জাতিক সাহিত্য গবেষণায় বাংলাদেশের অবস্থানকে শক্তিশালী করার সম্ভাবনা রাখে। এছাড়া, এই কাজটি বাংলা পাঠকদেরকে পূর্ব এশীয় ক্লাসিক্যাল সাহিত্যকে সরাসরি উপভোগের সুযোগ দেবে। প্রকাশনা অনুষ্ঠানটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে বহু বিশিষ্ট সাহিত্যিকের উপস্থিতি ছিল।

হেইয়ান যুগের শেষের দিকে মুরাসাকি শিকিবু রচিত ‘দ্য টেল অব গেঞ্জি’ জাপানের প্রথম উপন্যাস হিসেবে বিবেচিত হয় এবং বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম শীর্ষকর্ম। এই রচনা সম্রাজ্ঞী গেম্পোর জীবনের রোমান্স, রাজকীয় কূটনীতি এবং বৌদ্ধিক চিত্রণকে সূক্ষ্মভাবে উপস্থাপন করে। পূর্বে শুধুমাত্র জাপানি ও চীনা ভাষায়ই এই গ্রন্থের প্রচলন ছিল, তবে ১৯১২ সালে প্রথম ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশের পর থেকে আন্তর্জাতিক একাডেমিক আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। এখন পর্যন্ত বাংলা ভাষায় এর কোনো পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ না থাকায় এই প্রকাশনা সাহিত্য গবেষকদের জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।

বাংলা সাহিত্য সমালোচক ড. রমেশ চৌধুরী প্রকাশনা সংস্থার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন, ‘দ্য টেল অব গেঞ্জি’ আমাদের পাঠকদেরকে প্রাচীন জাপানের সমাজ কাঠামো ও মানবিক সম্পর্কের জটিলতা বুঝতে সহায়তা করবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে অধ্যাপক সুমাইয়া তানাকা বলেন, এই অনুবাদ জাপান-বাংলা সাংস্কৃতিক বিনিময়ের নতুন সেতু গড়ে তুলবে। সাধারণ পাঠকরা সামাজিক মিডিয়ায় প্রকাশনার পর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে, “এত বিশাল গ্রন্থ এখন বাংলায় পড়তে পারা সত্যিই গর্বের বিষয়” বলে মন্তব্য করেছে। এই ধরনের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া ভবিষ্যতে আরও ক্লাসিক্যাল কাজের অনুবাদকে উৎসাহিত করবে।

বাংলাদেশের সংস্কৃতি অধিদপ্তর এই প্রকাশনার জন্য বিশেষ স্বীকৃতি প্রদান করেছে এবং ভবিষ্যতে অতিরিক্ত প্রাচীন গ্রন্থের বাংলা অনুবাদে আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করেছে। জাতীয় গ্রন্থাগারও এই অনুবাদকে ডিজিটাল আর্কাইভে সংরক্ষণ করে গবেষকদের জন্য উন্মুক্ত করবে। প্রকাশনা সংস্থা পরিকল্পনা করেছে যে, পরবর্তী বছরগুলিতে ‘দ্য টেল অব গেঞ্জি’ এর বিশ্লেষণমূলক সেমিনার ও কর্মশালা আয়োজন করবে, যাতে শিক্ষার্থী ও গবেষকরা সরাসরি গ্রন্থের বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করতে পারে। এ ধরনের সমন্বিত পদক্ষেপ বাংলা পাঠকদেরকে বিশ্বসাহিত্যের ধনভাণ্ডারে প্রবেশের সুযোগ বাড়াবে।