লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত ‘বাফলা চ্যারিটি মিলন ২০২৬’ মিলনীর মাধ্যমে বাংলাদেশ ইউনিটি ফেডারেশন অব লস অ্যাঞ্জেলেস (বাফলা) ১ লাখ ১ হাজার ডলার অনুদান সংগ্রহ করেছে। এই অনুদানটি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগে সংগৃহীত, যার মূল লক্ষ্য হলো দেশের দরিদ্র ও অসহায় জনগোষ্ঠীর জন্য জরুরি সহায়তা প্রদান। মিলনীর আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন বহু স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক দাতা, পাশাপাশি বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রতিনিধি, যাঁরা এই উদ্যোগকে সমর্থন ও প্রশংসা করেছেন। এই অনুদানটি অবিলম্বে বাংলাদেশে জরুরি চিকিৎসা, শিক্ষা ও খাদ্য সহায়তা প্রকল্পে ব্যয় করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

বাফলা ফেডারেশন ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তখন থেকেই বাংলাদেশি অভিবাসী সম্প্রদায়ের সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। পূর্ববর্তী বছরগুলোতে ফেডারেশন বিভিন্ন দাতব্য মিলনি ও ফান্ডরাইজিং ইভেন্ট আয়োজন করেছে, যার মাধ্যমে হাজার হাজার ডলার সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দান করা হয়েছে। ‘বাফলা চ্যারিটি মিলন ২০২৬’ মিলনীর আয়োজনের পেছনে ছিল দেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সংকট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরিপ্রেক্ষিতে আরও বড় সহায়তার প্রয়োজনীয়তা। ফেডারেশনের সভাপতি বলেন, “আমাদের সম্প্রদায়ের সদস্যরা সর্বদা বাংলাদেশে অবদান রাখার ইচ্ছা পোষণ করেন, এবং এই মিলনীর মাধ্যমে আমরা একবারে বড় পরিমাণে অনুদান সংগ্রহ করতে পেরেছি।”

বাংলাদেশ দূতাবাসের উপদেষ্টা মি. আহমেদ জাহিরুল হক বলেন, “এই ধরনের উদ্যোগ আমাদের দেশের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থনের প্রতিফলন। আমরা এই অনুদানকে দ্রুততম সময়ে প্রয়োজনীয় স্থানে পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” মিলনীর উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সমাজসেবী, যাঁরা অনুদানের ব্যবহার সম্পর্কে স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে, মিলনীর অংশগ্রহণকারীরা সামাজিক মিডিয়ায় হ্যাশট্যাগ #বাফলা_চ্যারিটি_মিলন ব্যবহার করে অনুদানের প্রভাব ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়িয়েছেন।

বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ফেডারেশন মিলনীর আয়োজনে সহযোগিতা করেছে এবং অনুদানের ব্যবহার সম্পর্কে নিয়মিত প্রতিবেদন প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ভবিষ্যতে ফেডারেশন আরও বড় আকারের মিলনি ও ফান্ডরাইজিং ইভেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা করছে, যাতে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের সমর্থন অব্যাহত থাকে। পাশাপাশি, বাংলাদেশ সরকারও এই অনুদানের মাধ্যমে দুর্বল জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষামূলক কর্মসূচি চালু করার ঘোষণা দিয়েছে। এই উদ্যোগের ফলে দেশের সামাজিক উন্নয়ন ও মানবিক সহায়তা ক্ষেত্রে নতুন এক অধ্যায় শুরু হতে চলেছে।