সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) পরিবারিক সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে কর সংক্রান্ত স্পষ্ট নির্দেশনা জারি করেছে, যা জমি বা অন্যান্য সম্পত্তি দান‑হেবার ওপর করের প্রযোজ্যতা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিভ্রান্তি দূর করবে। এই নির্দেশনা অনুসারে, পারিবারিক সদস্যদের মধ্যে হেবা করলে হেবার স্বীকৃত মূল্য যদি নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করে তবে দানকর আরোপিত হবে, আর আয়কর সংক্রান্ত দিকেও নির্দিষ্ট শর্তে করের দায়িত্ব আরোপিত হবে। এই নীতি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে করদাতাদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে, কারণ পূর্বে দান‑হেবা করমুক্ত বলে প্রচলিত ধারণা ছিল।
দানের ওপর কর সংক্রান্ত বিধান মূলত ১৯৯১ সালের আয়কর আইন ও ১৯৯১ সালের দানকর আইন থেকে উদ্ভূত, যেখানে দানকৃত সম্পত্তির বাজারমূল্য নির্ধারণের পদ্ধতি ও করের হার নির্ধারিত হয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে, পরিবারিক সম্পত্তি হস্তান্তরে করের প্রয়োগ কম ছিল, তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সম্পত্তি মূল্যের দ্রুত বৃদ্ধি ও করভিত্তি সম্প্রসারণের ফলে সরকার দান‑হেবার ওপর কর আরোপের নীতি পুনর্বিবেচনা করেছে। বিশেষ করে, হেবার স্বীকৃত মূল্য যদি এক বছরের মধ্যে ১ কোটি টাকার বেশি হয়, তবে দানকর ১০% হারে আরোপিত হবে; অন্যদিকে, হেবার স্বীকৃত মূল্য যদি ১ কোটি টাকার নিচে থাকে, তবে দানকর থেকে অব্যাহতি থাকবে, তবে আয়কর সংক্রান্ত দায়িত্ব এখনও প্রযোজ্য হতে পারে।
এ বিষয়ে কর বিশেষজ্ঞ ড. মুহাম্মদ রশিদ আলী উল্লেখ করেন, “দানের স্বীকৃত মূল্য নির্ধারণে বাজারমূল্য, জমির অবস্থান ও উন্নয়ন সম্ভাবনা বিবেচনা করা উচিত; অন্যথায় অযথা করের বোঝা বাড়তে পারে।” এছাড়া, অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিও জানান, “সরকারি নির্দেশনা অনুসারে দান‑হেবা রেজিস্ট্রেশন ফর্মে সম্পত্তির স্বীকৃত মূল্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে, যাতে কর নির্ধারণে স্বচ্ছতা বজায় থাকে।” সাধারণ জনগণের মধ্যেও এই নির্দেশনা স্বাগত, তবে কিছু পরিবারিক দান‑হেবা প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত ব্যয় ও সময়সীমা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
এখন থেকে সকল দান‑হেবা রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ায় দানকর ও আয়কর সংক্রান্ত তথ্য সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে, এবং সংশ্লিষ্ট ফর্ম পূরণে অনলাইন পোর্টাল ব্যবহার করা যাবে। এনবিআর ভবিষ্যতে দান‑হেবা রেজিস্ট্রেশনকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কর নির্ধারণের সিস্টেমের সঙ্গে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা করেছে, যাতে করদাতারা দ্রুত ও সঠিকভাবে কর পরিশোধ করতে পারেন। এছাড়া, পরবর্তী আর্থিক বছরের বাজেট আলোচনায় দান‑হেবার কর হারের পুনর্বিবেচনা ও সীমা সমন্বয়ের সম্ভাবনা রয়েছে, যা কর নীতি আরও ন্যায়সঙ্গত ও সহজলভ্য করতে সহায়তা করবে।