ঢাকা শহরের গুলশান রোডে গত সন্ধ্যায় জাতীয় নেতা মমতা সরকারকে ছুরি দিয়ে আক্রমণ করার অভিযোগে এক অনুপ্রবেশকারী গ্রেপ্তার হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে সন্দেহভাজনকে আটক করে এবং মমতার নিরাপত্তা দলকে সতর্ক করে। এই ঘটনা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, কারণ মমতা সরকার সম্প্রতি বিরোধী দলের সঙ্গে তীব্র বিতর্কে লিপ্ত ছিলেন। স্থানীয় মিডিয়া সূত্রে জানা যায়, আক্রমণকারীকে প্রথমে একটি অজানা ফোন কলের মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তু করা হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাটি ঘটার সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয় এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্ন উত্থাপিত হয়।

মমতার ওপর এই ধরনের হুমকি ও আক্রমণের পটভূমি কয়েক মাসের রাজনৈতিক উত্তেজনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। গত বছর নির্বাচনের পরপরই বিরোধী দল ও সরকারের মধ্যে বহু বিতর্ক ও প্রতিবাদে উত্তেজনা বেড়েছে, বিশেষ করে অর্থনৈতিক সংস্কার ও দুর্নীতি মোকাবিলার পদক্ষেপে বিরোধী দল কঠোর সমালোচনা করে আসছে। এছাড়া, মমতা সরকার সম্প্রতি কিছু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপন করে, যা রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে তীব্র বিরোধের সূত্রপাত করে। এই প্রেক্ষাপটে, পূর্বে মমতার নিরাপত্তা সংক্রান্ত কয়েকটি হুমকি রেকর্ড করা হয়েছে, তবে কোনো সরাসরি শারীরিক আক্রমণের ঘটনা রেকর্ডে না থাকায় এই ঘটনা বিশেষভাবে চমকপ্রদ।

পুলিশের মুখ্য কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে জানিয়ে বলেন, "প্রাথমিক তদন্তে দেখা যাচ্ছে এটি বাগবিতণ্ডা, কোনো পরিকল্পিত হত্যার প্রচেষ্টা নয়। সন্দেহভাজন ব্যক্তি ব্যক্তিগত বিরোধের কারণে মমতার সঙ্গে তর্কে লিপ্ত হয়ে হিংসাত্মক পথে গিয়ে আক্রমণ করার চেষ্টা করেছে।" মমতার পার্টির মুখপাত্রও একই রকম মন্তব্য করে জানান, "মমতা সরকার কোনো হিংসা বা হুমকির মুখে নয়, আমরা আইনের শাসনকে সম্মান করি এবং সংশ্লিষ্টকে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করব।" বিরোধী দলের প্রতিনিধিরা ঘটনাটিকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত হিসেবে তুলে ধরতে চায়, যদিও তারা সরাসরি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেনি। সাধারণ জনগণের মধ্যে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ছে, বিশেষ করে রাজনৈতিক নেতাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে।

অধিক তদন্তের জন্য ঢাকা পুলিশ বিশেষ দল গঠন করেছে এবং সন্দেহভাজনের অতীত সংযোগ, ফোন রেকর্ড ও সামাজিক মিডিয়া কার্যকলাপ বিশ্লেষণ করছে। নিরাপত্তা সংস্থা মমতার নিরাপত্তা দলকে অতিরিক্ত সুরক্ষা প্রদান করার নির্দেশ দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সমাবেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। আইনগত দিক থেকে, সন্দেহভাজনকে অস্ত্র অপরাধ ও হিংসাত্মক অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আদালতে দায়ের করা হবে। সরকার এই ধরনের ঘটনা পুনরায় না ঘটার জন্য নিরাপত্তা নীতি পুনর্বিবেচনা করবে এবং রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করবে।