ঢাকা ভিত্তিক উৎপাদন সংস্থা ‘সিনেমা ভিশন’ সম্প্রতি ‘প্রতিদিন চুমু খেতে হবে—সিনেমায় অদ্ভুত শর্ত’ শিরোনামের নতুন বাংলা চলচ্চিত্রের উদ্বোধন করেছে। চলচ্চিত্রের পরিচালক রাহুল চৌধুরী ও প্রযোজক সুমিতা রায়ের মতে, ছবির মূল কাহিনী একটি আধুনিক দম্পতির দৈনন্দিন জীবনের রোমান্সকে কেন্দ্র করে, তবে গল্পের অগ্রগতিতে একটি অস্বাভাবিক শর্ত যুক্ত করা হয়েছে—প্রধান চরিত্রের দুই অভিনেতাকে প্রতিদিন অন্তত একবার চুম্বন করতে হবে। এই শর্তটি চলচ্চিত্রের বাস্তবতা ও আবেগের গভীরতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে যুক্ত করা হয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি মিডিয়া ও শিল্প জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ছবির প্রথম দৃশ্যের টিজারও প্রদর্শিত হয়। চিত্রগ্রহণের জন্য ৩ মাসের বেশি সময় ব্যয় করা হয়েছে এবং শুটিংটি মূলত ঢাকার বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থানে সম্পন্ন হয়েছে।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পে বাস্তবিক প্রেমের দৃশ্যের ব্যবহার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধীরে ধীরে বাড়ছে। ২০১৯ সালে ‘অন্তরঙ্গ’ চলচ্চিত্রে প্রথমবারের মতো ঘনিষ্ঠ চুম্বনের দৃশ্য দেখা গিয়েছিল, যা সমালোচক ও দর্শকদের মধ্যে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করেছিল। এরপর ‘মনের দরজা’ ও ‘প্রেমের রঙ’ মতো ছবিগুলোতে সীমিত পরিমাণে চুম্বন দৃশ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তবে সেগুলো সাধারণত কাহিনীর প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী সীমাবদ্ধ রাখা হয়। ‘প্রতিদিন চুমু খেতে হবে’ চলচ্চিত্রের শর্তটি এই প্রবণতার এক নতুন পর্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে দৈনন্দিন চুম্বনকে গল্পের কাঠামোতে বাধ্যতামূলক উপাদান হিসেবে গৃহীত করা হয়েছে। এই ধরনের পরিবর্তন সমাজের সংরক্ষণবাদী মনোভাবের সঙ্গে সংঘর্ষের সম্ভাবনা তৈরি করে, বিশেষ করে পরিবারিক দর্শকগোষ্ঠীর মধ্যে।

চলচ্চিত্রের পরিচালক রাহুল চৌধুরী প্রকাশ্যে বলছেন, ‘চুম্বনকে দৈনন্দিন রীতি হিসেবে উপস্থাপন করা চরিত্রের মানসিক গভীরতা প্রকাশের একটি কৌশল’। প্রধান অভিনেতা আরিফ হোসেনও যোগ দিয়েছেন, ‘এই শর্তটি আমার জন্য চ্যালেঞ্জিং, তবে চরিত্রের স্বাভাবিকতা বজায় রাখতে এটি অপরিহার্য’। অন্যদিকে, চলচ্চিত্র সমালোচক সায়মা রায় উল্লেখ করেছেন, ‘যদি শর্তটি কাহিনীর অগ্রগতির জন্য যুক্তিসঙ্গত হয়, তবে তা গ্রহণযোগ্য হতে পারে, তবে অতিরিক্ত দৃশ্যবিন্যাস দর্শকের স্বাচ্ছন্দ্যকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে’। সাধারণ দর্শকগোষ্ঠীর প্রতিক্রিয়া মিশ্র; কিছু তরুণ দর্শক সামাজিক বাস্তবতাকে স্বাগত জানিয়ে মন্তব্য করেছেন, ‘এমন স্বচ্ছন্দ্যতা আমাদের তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ’, আর কিছু সংরক্ষণবাদী পরিবার ‘বিনোদনমূলক শিল্পে এই ধরনের দৃশ্যের অতিরিক্ত ব্যবহার অনুচিত’ বলে আপত্তি তুলেছেন। সামাজিক মিডিয়ায় এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে হ্যাশট্যাগ #প্রতিদিনচুমু ট্রেন্ডিং তালিকায় স্থান পেয়েছে।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সনদন (বিএফসিএ) এই চলচ্চিত্রের সনদন প্রক্রিয়ায় বিশেষ মনোযোগ দিয়েছে। সনদন কমিটি চলচ্চিত্রের চুম্বন দৃশ্যের সংখ্যা ও প্রাসঙ্গিকতা পর্যালোচনা করে, শেষ পর্যন্ত ‘সামান্য’ রেটিং প্রদান করে, তবে শর্তসাপেক্ষে কিছু দৃশ্যের কাটছাঁটের নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়া, সি.ই.ও. (সেনসরশিপ ও এক্সিকিউশন অফিস) চলচ্চিত্রের প্রচারমূলক উপকরণে স্পষ্ট সতর্কতা যোগ করার নির্দেশ দিয়েছে, যাতে অপ্রাপ্তবয়স্ক দর্শকরা বিষয়বস্তু সম্পর্কে সচেতন হতে পারে। শিল্প সংস্থা ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্প সমিতি’ও এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে, এবং ভবিষ্যতে সমজাতীয় শর্তযুক্ত চলচ্চিত্রের জন্য স্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, এই ধরনের নিয়মাবলী শিল্পের সৃজনশীল স্বাধীনতাকে রক্ষা করার সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক দায়িত্বের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক হবে।