ইমরানের মুক্তির দাবি জানাতে দেশের বিভিন্ন কোণ থেকে সমবেত হয়ে লংমার্চের আয়োজন করা হয়। তবে এই লংমার্চের অংশগ্রহণকারীরা ছয় দিন ধারাবাহিকভাবে পাখতুনখাওয়ায় অগ্রসর হতে পারেনি, যা জনমত ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্ন তুলেছে। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তারিক ফজল চৌধুরীর মতে, পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা জারি করার প্রক্রিয়া কেন্দ্র সরকার সম্পন্ন করেছে এবং তা অবিলম্বে কার্যকর করা হবে। এই পরিস্থিতি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা সঞ্চার করেছে এবং নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগের সঞ্চার ঘটিয়েছে।

ইমরানের মুক্তির দাবি মূলত তার পূর্ববর্তী গ্রেপ্তার ও বিচারের পরিপ্রেক্ষিতে উঠে এসেছে। অতীতে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তার গ্রেপ্তারকে রাজনৈতিক দমন হিসেবে গণ্য করা হয়। লংমার্চের পূর্বে বহুবার সমাবেশের অনুমতি প্রত্যাখ্যান করা হলেও, এইবার সরকারের সঙ্গে আলোচনা শেষে অনুমোদন পাওয়া সত্ত্বেও পাখতুনখাওয়ায় অগ্রসর হতে বাধা পাওয়া যায়। পাখতুনখাওয়ায় পূর্বে সংঘটিত সহিংসতা ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা সরকার উল্লেখ করে জরুরি অবস্থা প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়। এই পটভূমি লংমার্চকে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা দু’দিক থেকে জটিল করে তুলেছে।

স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তারিক ফজল চৌধুরী জরুরি অবস্থা জারির বিষয়ে কেন্দ্র সরকারের আলোচনা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা জানিয়ে দেন যে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং জনসাধারণের সুরক্ষা বজায় রাখতে এই পদক্ষেপ অপরিহার্য। বিরোধী দলের নেতারা এই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক দমন হিসেবে সমালোচনা করে এবং ইমরানের মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত লংমার্চ চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে। মানবাধিকার সংস্থা ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা সরকারকে সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করার আহ্বান জানায়। সাধারণ জনগণের মধ্যে লংমার্চের প্রতি সমর্থন ও বিরোধ উভয়ই স্পষ্ট, যা দেশের রাজনৈতিক মঞ্চে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে।

কর্তৃপক্ষ জরুরি অবস্থা জারি করার পর দ্রুত নিরাপত্তা বাহিনীর মোতায়েন, ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং জনসমাগমের সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে। পাশাপাশি, সরকার পাখতুনখাওয়ায় নিরাপত্তা পর্যালোচনা কমিটি গঠন করে পরিস্থিতি মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় সমন্বয় করার পরিকল্পনা করেছে। ভবিষ্যতে লংমার্চের পুনরায় চালু হওয়া বা বিকল্প রুটে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে সরকার ও বিরোধী দল উভয়ই আলোচনা চালিয়ে যাবে। শেষ পর্যন্ত, ইমরানের মুক্তি ও লংমার্চের সুষ্ঠু পরিচালনা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।