গত সপ্তাহে গাজীপুরের রূপসা নদীর তীব্র ভাঙনের ফলে পাঁচজনের প্রাণহানি ঘটার পর, স্থানীয় নারী সাহারা বেগম এই দুর্যোগের শিকারদের পরিবারকে সমর্থন করার জন্য নিজস্ব উদ্যোগে একটি সাফল্যের গল্প শেয়ার করেন। তিনি নিজে পাঁচবার ভিটেমা (শিকার) হারিয়ে গেছেন, তবে প্রতিবারই তিনি আত্মহত্যা না করে পুনরায় সংগ্রাম করার সংকল্প গড়ে তোলেন। তার এই দৃঢ়তা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি স্থানীয় সমাজে প্রশংসা পেয়েছে এবং মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। সাহারার গল্পটি কেবল এক ব্যক্তিগত সংগ্রাম নয়, বরং নদীভাঙনের প্রভাবের মুখে মানবিক সহনশীলতার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

রূপসা নদীর ধারাবাহিক ভাঙন ও তীরভঙ্গের পটভূমিতে রয়েছে দীর্ঘমেয়াদী অবহেলা, অনিয়মিত বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং অপ্রতুল অবকাঠামো। গত দশকে এই অঞ্চলে শত শত পরিবার তাদের বাড়ি ও জীবিকার ক্ষতি ভোগ করেছে। সাহারার পরিবারও ২০১৯ সালে প্রথমবারের মতো নদীর তীরের ঘাঁটি ভেঙে যাওয়ায় তাদের গৃহহীনতা ও আর্থিক সংকটে পড়ে। এরপর তিনি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়ে ভিকটিমদের জন্য অস্থায়ী শিবির, চিকিৎসা সহায়তা এবং পুনর্বাসন পরিকল্পনা শুরু করেন। তার এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে শিক্ষিত নারী হিসেবে সামাজিক পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতা।

সাহারার কথা শুনে স্থানীয় বাসিন্দা রাব্বি হোসেন বলেন, “তিনি আমাদের জন্য আশা ও শক্তির প্রতীক। পাঁচবার শোকের মুখোমুখি হলেও তিনি কখনো হাল ছাড়েননি।” জেলা প্রশাসকের সহকারী, মো. রশিদুল ইসলাম উল্লেখ করেন, “সাহারার উদ্যোগ আমাদের সরকারী পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং তিনি জনগণের সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে বাস্তব সমাধান আনছেন।” এছাড়া, নারী অধিকার সংস্থার প্রতিনিধি শারমিনা বেগম যোগ করেন, “সাহারার মতো নারী নেতৃত্বের উদাহরণ আমাদের সমাজে লিঙ্গ সমতা ও স্বনির্ভরতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।” এইসব মন্তব্যের ফলে তার কাজের প্রতি জনসাধারণের সমর্থন বাড়ছে এবং স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমে নতুন স্বেচ্ছাসেবক যুক্ত হচ্ছেন।

অধিকাংশ কর্তৃপক্ষ এখন রূপসা নদীর তীরভঙ্গ রোধে জরুরি অবকাঠামো নির্মাণের কাজ ত্বরান্বিত করেছে। জেলা প্রশাসন ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে নদীর তীরের পুনর্বাসন পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী গোষ্ঠীর সঙ্গে সমন্বয় করে ত্রাণকেন্দ্র স্থাপন করবে। সাহারাকে এই পরিকল্পনায় অংশগ্রহণের জন্য বিশেষ অনুমোদন প্রদান করা হয়েছে এবং তাকে প্রশিক্ষণ ও তহবিলের সহায়তা দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে তিনি স্থানীয় যুবকদের পরিবেশ সংরক্ষণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণ দিতে পরিকল্পনা করছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে নদীভাঙনের প্রভাব কমাতে সহায়ক হবে। এভাবে সরকার, সমাজ ও ব্যক্তিগত উদ্যোগের সমন্বয়ে একটি টেকসই সমাধানের পথে অগ্রসর হওয়া সম্ভব হবে।