গতকাল সন্ধ্যা আটটায় ঢাকা শহরের রোড ১০১ নম্বর এলাকায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে অধ্যাপক জামাল উদ্দিনের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকারী দলটি পুলিশ বিশেষ দফতর, যা দেশের নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছিল। গ্রেপ্তারটি দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও মানবাধিকার সংস্থার মধ্যে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি করেছে, কারণ শিক্ষাবিদকে সন্ত্রাসী অপরাধে যুক্ত করা একটি বিরল এবং সংবেদনশীল ঘটনা। গ্রেপ্তারকৃত অধ্যাপকটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে কর্মরত ছিলেন এবং তার নামটি সম্প্রতি বিভিন্ন রাজনৈতিক আলোচনায় উঠে এসেছিল। এই ঘটনার তাৎক্ষণিক গুরুত্ব দেশের নিরাপত্তা নীতি ও শিক্ষাবিদদের স্বাধীনতা সংরক্ষণে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।
অধ্যাপক জামাল উদ্দিনের পটভূমি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটিতে পিএইচডি সম্পন্ন করে বহু গবেষণা প্রকাশ করেছেন, বিশেষত দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাস ও মানবাধিকার বিষয়ে। গত কয়েক বছর তিনি কয়েকটি জনসাধারণের সমাবেশে বক্তৃতা দিয়েছিলেন, যেখানে তিনি রাষ্ট্রের নীতি ও মানবাধিকার সংরক্ষণে সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করতেন। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ধারাগুলো সাম্প্রতিক সময়ে বিস্তৃত করা হয়েছে, যা পূর্বে অপরাধমূলক কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত না থাকা ব্যক্তিদেরও লক্ষ্যবস্তু করে তুলেছে। কর্তৃপক্ষের মতে, অধ্যাপককে কিছু গোপন নথি ও যোগাযোগের রেকর্ডের মাধ্যমে সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে সংযোগের সন্দেহ করা হয়েছে, যদিও তার পূর্বের কোনো অপরাধের রেকর্ড নেই।
গ্রেপ্তার পরপরই অধ্যাপকের পরিবার ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে একাধিক মন্তব্য প্রকাশ পায়। পরিবার জানায়, তিনি কোনো সন্ত্রাসী কার্যকলাপে যুক্ত ছিলেন না এবং তার গ্রেপ্তারকে ‘অবৈধ’ ও ‘রাজনৈতিক’ অভিযোগ করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য উল্লেখ করেন, শিক্ষাবিদদের স্বাধীনতা ও গবেষণার স্বাধীনতা রক্ষার জন্য এই ধরনের পদক্ষেপ স্বাভাবিকভাবে স্বীকৃত নয় এবং তা শিক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা ক্ষুণ্ণ করতে পারে। মানবাধিকার সংস্থা ‘বাংলা হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন’ গ্রেপ্তারকে ‘অধিকাংশ প্রমাণের অভাবে’ এবং ‘অধিকারের অপব্যবহার’ বলে সমালোচনা করে। সাধারণ জনগণের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়; কিছু মানুষ নিরাপত্তা সংস্থার পদক্ষেপকে স্বাগত জানায়, আবার অন্যরা শিক্ষাবিদদের স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়ার ভয় প্রকাশ করে।
অধিকারের দিক থেকে, পুলিশ বিশেষ দফতর ইতিমধ্যে গ্রেপ্তারকৃত অধ্যাপককে হেফাজতে রেখে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং আদালতে তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আইন অনুসারে, তাকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির হতে হবে এবং তার বিরুদ্ধে প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে। সরকারও এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের প্রয়োগে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করার জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করার ঘোষণা দিয়েছে। কমিটি ভবিষ্যতে এমন মামলাগুলোতে প্রমাণের মানদণ্ড ও মানবাধিকার সংরক্ষণের নীতি নির্ধারণে কাজ করবে, যাতে শিক্ষাবিদ ও অন্যান্য পেশাজীবীরা অপ্রয়োজনীয়ভাবে লক্ষ্যবস্তু না হন।"