টেনেটুন গ্রামাঞ্চলে অবস্থিত একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বর্তমানে মাত্র দুইজন শিক্ষক দ্বারা ৪৮৬ জন শিক্ষার্থী—সবাইই মেয়ের—শিক্ষা গ্রহণে বাধাপ্রাপ্ত। বিদ্যালয়ের পুরনো কাঠের ভবন, অপর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ এবং সীমিত শিক্ষাসামগ্রী সত্ত্বেও শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন সকাল সাড়ে ছয়টায় বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়। দুইজন শিক্ষকই একসঙ্গে প্রায় আট ঘণ্টা ক্লাস পরিচালনা করে, ফলে প্রতিটি শ্রেণিতে গড়ে ২৪০ জন শিক্ষার্থীকে একসাথে শেখাতে বাধ্য হয়। এই অস্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশের ফলে শিক্ষার মান হ্রাস, শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং শিশুরা মানসিক চাপের শিকার হচ্ছে।

টেনেটুনের এই বিদ্যালয়টি ভারত সীমান্তের নিকটবর্তী জকিগঞ্জ থানা এলাকার অন্তর্ভুক্ত, যেখানে সড়ক যোগাযোগ দুর্বল এবং দৈনন্দিন যাতায়াতের সময়কাল দীর্ঘ। সরকার যখনই নতুন শিক্ষক নিয়োগের আদেশ জারি করে, অধিকাংশ প্রার্থীর জন্য জকিগঞ্জের দূরত্ব ও নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে পদত্যাগের আবেদন করা হয়। অতীতের রেকর্ডে দেখা যায়, নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা এক থেকে দুই মাসের মধ্যে বদলি চেয়ে অন্য জেলা বা শহরে স্থানান্তরিত হয়ে যান। ফলে বিদ্যালয়ে ধারাবাহিকভাবে শিক্ষক ঘাটতি বজায় থাকে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য স্থিতিশীল শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলা কঠিন হয়ে পড়ে।

স্থানীয় পিতামাতা ও শিক্ষার্থীরা এই পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। পিতামাতারা জানিয়েছেন, দুইজন শিক্ষকের ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপের ফলে ক্লাসের সময়সূচি অনিয়মিত এবং শিক্ষার গুণগত মান হ্রাস পাচ্ছে। শিক্ষক সমিতির প্রতিনিধি বলেছেন, তারা যথাযথ বেতন, বাসস্থান এবং নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা না পেলে এই ধরনের দূরবর্তী এলাকায় কাজ চালিয়ে যাওয়া কঠিন। কিছু এনজিও ও সামাজিক সংস্থা এই সমস্যার সমাধানে তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে, তবে সরকারী সহায়তা ছাড়া দীর্ঘমেয়াদী সমাধান সম্ভব নয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই বিষয়টি জানার পর জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। প্রথম ধাপে, অতিরিক্ত দুইজন শিক্ষককে অস্থায়ীভাবে পাঠিয়ে ক্লাসের গৃহস্থতা সাময়িকভাবে স্বাভাবিক করা হবে। পাশাপাশি, দূরবর্তী এলাকার শিক্ষকদের জন্য বিশেষ ভাতা, বাসস্থান এবং নিরাপদ পরিবহন সুবিধা প্রদান করে নিয়োগের শর্ত কঠোর করা হবে। দীর্ঘমেয়াদে, সরকার টেনেটুনে নতুন শিক্ষাকেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে, যাতে একক বিদ্যালয়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ না থাকে। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষক ঘাটতি স্থায়ীভাবে দূর করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।