গায়ে পা লাগলে ‘সালাম’ করা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিষ্টাচারের অংশ হিসেবে ব্যাপকভাবে পালন করা হয়। বিশেষত গ্রামীণ সমাজে এই আচরণকে সম্মান ও বিনয় প্রকাশের রূপে দেখা হয় এবং সামাজিক মিথস্ক্রিয়ায় তা স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করা হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক মিডিয়ায় এই প্রথা নিয়ে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্ন উঠেছে; ইসলামী শাস্ত্রে গায়ে পা লাগলে সালাম করার কোনো স্পষ্ট বিধান আছে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক গড়ে উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে ধর্মীয় পণ্ডিত, সমাজবিজ্ঞানী এবং সাধারণ নাগরিকের মতামত একে অপরের সঙ্গে মেলামেশা করছে, যা বিষয়টির তাৎক্ষণিক গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
ইসলামী শাস্ত্রের মূল সূত্র, হাদিস ও ফিকহে শারীরিক ভঙ্গি ও আচরণ সংক্রান্ত বহু নির্দেশনা পাওয়া যায়, তবে গায়ে পা লাগলে সালাম করার নির্দিষ্ট কোনো উল্লেখ পাওয়া যায় না। অধিকাংশ হাদিসে সালামকে মুখে বা হাতের মাধ্যমে আদাবের অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, আর শারীরিক স্পর্শের ক্ষেত্রে শালীনতা ও সীমারেখা বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে, প্রাচীন আরব সমাজে শারীরিক স্পর্শের সীমা নির্ধারিত ছিল, যা আধুনিক মুসলিম সমাজে বিভিন্ন ব্যাখ্যা পেতে পারে। তাই, এই প্রথা মূলত স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত, ধর্মীয় বিধানের সরাসরি ফলাফল নয়।
ধর্মীয় পণ্ডিতদের মন্তব্যে স্পষ্ট দেখা যায় যে, গায়ে পা লাগলে সালাম করা কোনো ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা নয়, বরং সামাজিক রীতির ফল। কিছু উলেমা এই প্রথাকে ‘অনুগ্রহের অতিরিক্ত’ বলে সমালোচনা করেন, অন্যদিকে কিছু সমাজবিজ্ঞানী এটিকে স্থানীয় ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেন এবং সামাজিক সংহতি বজায় রাখতে এর ইতিবাচক দিককে গুরুত্ব দেন। সাধারণ মানুষও এই বিষয়ে বিভক্ত; কেউ কেউ এটিকে শিষ্টাচার হিসেবে বজায় রাখতে চান, আবার অন্যরা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন। মিডিয়ায় প্রকাশিত জরিপে দেখা যায়, প্রায় অর্ধেক নাগরিক এই প্রথা অব্যাহত রাখার পক্ষে, অন্য অর্ধেকই ধর্মীয় সঠিকতা অনুসারে পরিবর্তনের আহ্বান জানাচ্ছেন।
সরকারি ও ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত এই প্রথা সম্পর্কে কোনো আইনগত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেনি, তবে ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শালীনতা ও শারীরিক সীমারেখা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করার জন্য কর্মশালা ও সেমিনার আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে, ধর্মীয় সংস্থাগুলি যদি এই প্রথা সম্পর্কে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করে, তবে সমাজে বিভ্রান্তি কমে যাবে এবং শিষ্টাচার বজায় রাখার সঙ্গে সঙ্গে ধর্মীয় সঠিকতা রক্ষিত হবে।