গাজীপুর বন্ধুসভা গাজীপুরের সাখাওয়াতের জন্য একটি বিশেষ সহায়তা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। সংস্থাটি গাজীপুর বন্ধুসভা 'একটি ভালো কাজ' কর্মসূচির অংশ হিসেবে সাখাওয়াতের হাতে হুইলচেয়ার প্রদান করেছে এবং তার পরিবারের জন্য এক মাসের নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার সামগ্রী সরবরাহ করেছে। একই সঙ্গে দুই সন্তানের জন্য এক বছরের শিক্ষাসামগ্রীও উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগটি গাজীপুর বন্ধুসভার প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত প্রথম আলোর ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়। সাখাওয়াতের মুখে আনন্দের অশ্রু এবং আশার আলো ছড়িয়ে পড়েছে।
সাখাওয়াত দুই পা হারিয়ে চলমান জীবনের কঠিন সংগ্রামকে অতিক্রম করে আসছেন। তিনি পূর্বে গৃহহীনতা এবং দারিদ্র্যের ঝড়ে ভুগছিলেন, আর তার পরিবারে দুইটি ছোট সন্তান রয়েছে, যারা শিক্ষার স্বপ্নে বেঁচে আছে। হুইলচেয়ার ছাড়া তিনি দৈনন্দিন কাজকর্মে সীমাবদ্ধ ছিলেন, বাজারের সামগ্রী সংগ্রহে অতিরিক্ত সময় ও শারীরিক কষ্ট ভোগ করতেন। তার পরিবার দীর্ঘদিনের জন্য মৌলিক চাহিদা পূরণে সংগ্রাম করে আসছিল, এবং শিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহে অতিরিক্ত আর্থিক চাপের মুখে ছিল। এই সহায়তা তার জীবনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
গাজীপুর বন্ধুসভার সভাপতি শ্রীমতি রেহানা জানান, 'সাখাওয়াতের মতো দুর্বল নাগরিকদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব, এবং এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা সামান্য হলেও তাদের জীবনে স্বস্তি আনতে পারি'। সাখাওয়াতের পরিবারও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, 'হুইলচেয়ার পাওয়া মানে স্বাধীনতা ফিরে পাওয়া, আর বাজারের সামগ্রী আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অগ্রাধিকারকে পূরণ করবে'। আশেপাশের প্রতিবেশী ও স্থানীয় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সমর্থন জানিয়েছে। সামাজিক মিডিয়ায় এই ঘটনাটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, এবং বহু মানুষ অনুরূপ সহায়তা প্রদানের আহ্বান জানায়।
স্থানীয় সরকার এই ধরনের সামাজিক সহায়তা কার্যক্রমকে উৎসাহিত করার জন্য বিশেষ তহবিল গঠন করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। গাজীপুর পৌরসভার সামাজিক কল্যাণ বিভাগ ভবিষ্যতে আরও অক্ষম ব্যক্তিদের জন্য হুইলচেয়ার এবং মৌলিক সামগ্রী সরবরাহের কাজ বাড়াবে। এছাড়া, শিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও বৃত্তি পরিকল্পনা চালু করার মাধ্যমে সাখাওয়াতের সন্তানদের শিক্ষার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা হবে। গাজীপুর বন্ধুসভা এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে এই ধরনের উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সমাজের দুর্বল স্তরে সমান সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে।