প্রধানমন্ত্রী আজ (তারিখ) জাপানের রাজধানী টোকিওতে চার দিনের সরকারি সফর শুরু করেছেন। সফরের প্রথম দিনে তিনি জাপানের প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের আয়োজন করেছেন, যেখানে উভয় দেশের কূটনৈতিক, বাণিজ্যিক ও উন্নয়নমূলক সহযোগিতার নতুন দিক নির্ধারণের লক্ষ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এই সফরটি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক মঞ্চে অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে এবং দেশীয়-বিদেশি উভয় পর্যায়ে ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।

বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘমেয়াদী বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের পটভূমিতে ১৯৭৪ সালে স্বাক্ষরিত দ্বিপাক্ষিক বন্ধুত্ব চুক্তি, পরবর্তী দশকে জাপান থেকে প্রাপ্ত উন্নয়ন সহায়তা, এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাণিজ্যিক পরিমাণে ধারাবাহিক বৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য। পূর্বে জাপানের প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বাংলাদেশ সফর অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে অবকাঠামো প্রকল্প, জ্বালানি নিরাপত্তা ও মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপর চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। বর্তমান সফরে প্রধানত জাপানের বৃহৎ কোম্পানি ও উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ, বিনিয়োগের সুযোগ ও প্রযুক্তি স্থানান্তরের সম্ভাবনা আলোচনা করা হবে।

সফরের প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রী জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও ডিজিটাল রূপান্তরের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে বলেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রীও বাংলাদেশের স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ ও দ্রুত বর্ধমান বাজারকে প্রশংসা করে, জাপানি বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র হিসেবে রপ্তানি-ভিত্তিক শিল্প, ইলেকট্রিক গাড়ি ও স্মার্ট সিটি প্রকল্পের সম্ভাবনা তুলে ধরেন। জাপানের বৃহৎ কোম্পানির প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের শ্রমশক্তি ও কৌশলগত অবস্থানকে উল্লেখ করে, দীর্ঘমেয়াদী অংশীদারিত্বের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। সাধারণ জনগণের মধ্যে এই সফরকে দেশের আন্তর্জাতিক মর্যাদা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা হিসেবে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী সফরের শেষ দিনে জাপানের সঙ্গে বহু‑বিধ চুক্তি স্বাক্ষরের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন, যার মধ্যে বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি, প্রযুক্তি স্থানান্তর চুক্তি এবং জ্বালানি সহযোগিতা চুক্তি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সরকার ইতিমধ্যে জাপানি কোম্পানিগুলোর জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনের প্রস্তাব প্রস্তুত করেছে এবং সংশ্লিষ্ট আইনসভার অনুমোদনের জন্য প্রণোদনা প্যাকেজ তৈরি করেছে। ভবিষ্যতে জাপানের সঙ্গে যৌথ গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন, উচ্চশিক্ষা বিনিময় ও দক্ষ কর্মশক্তি প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা দেশের উৎপাদনশীলতা ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। এই পদক্ষেপগুলোকে দেশের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন কৌশলের সঙ্গে সমন্বিত করে, অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা ও সামাজিক সমৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে।