সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকা শহরের একটি পুলিশ কর্মকর্তার বাসভবনে ৮৫ জনকে গ্রেপ্তার ও দণ্ডের খবর প্রকাশ পায়। ঘটনাটি ঘটেছে যখন ওই কর্মকর্তার বাড়িতে একটি ‘মোরাল পুলিশিং’ কার্যক্রম চলছিল, যেখানে বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের নৈতিকতা ও আচরণ নিয়ে তিরস্কার করা হচ্ছিল। কর্তৃপক্ষের মতে, ওই কর্মকর্তার অধীনে থাকা দলটি নাগরিকদের গোপনীয়তা লঙ্ঘন ও নৈতিকতার অজুহাতে ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ করে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছে ছাত্র, কর্মী, ও সাধারণ নাগরিক, যাদের বিরুদ্ধে ‘অশ্লীলতা’ ও ‘অশালীন আচরণ’ অভিযোগ আনা হয়েছে। এই ঘটনাটি সমাজে নৈতিকতা ও আইনগত সীমারেখা নিয়ে তীব্র বিতর্ক উস্কে দিয়েছে।

মোরাল পুলিশিং বা নৈতিক পুলিশিং বাংলাদেশের সমাজে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কের বিষয়। ২০১৫ সালে ‘মোরাল পুলিশিং’ নামে পরিচিত একাধিক ঘটনার পর সরকার আইনগত পদক্ষেপ নেয়, কিন্তু এখনও অনেক ক্ষেত্রে নৈতিকতার অজুহাতে ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ দেখা যায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ‘মোরাল পুলিশিং’ কার্যক্রমে গ্রেপ্তার, শারীরিক নির্যাতন ও গোপনীয়তা লঙ্ঘনের ঘটনা বাড়ছে। এই ঘটনাটি বিশেষত শহুরে এলাকায় দেখা যায়, যেখানে সামাজিক মিডিয়া ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে ‘মোরাল পুলিশিং’ কার্যক্রম দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তাই এই গ্রেপ্তারগুলো নৈতিকতা ও আইনগত সীমারেখা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।

গ্রেপ্তারকৃত ৮৫ জনের পরিবার ও মানবাধিকার কর্মীরা পুলিশের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছে। তারা দাবি করেছে যে ‘মোরাল পুলিশিং’ কার্যক্রমে নাগরিকদের গোপনীয়তা ও স্বাধীনতা লঙ্ঘিত হচ্ছে। পুলিশ বিভাগে একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন যে ঘটনাটি তদন্তাধীন এবং ‘মোরাল পুলিশিং’ কার্যক্রমে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সামাজিক মিডিয়ায় ‘মোরাল পুলিশিং’ বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আন্দোলন শুরু হয়েছে, যেখানে ‘নাগরিক অধিকার’ ও ‘গোপনীয়তা’ রক্ষার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষের মতে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে ‘অশ্লীলতা’ ও ‘অশালীন আচরণ’ অভিযোগের ভিত্তিতে শাস্তি আরোপ করা হয়েছে। তবে মানবাধিকার সংস্থা ও আদালতকে অনুরোধ জানানো হয়েছে যে ‘মোরাল পুলিশিং’ কার্যক্রমে নৈতিকতার অজুহাতে ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ বন্ধ করা হোক। সরকার ‘মোরাল পুলিশিং’ কার্যক্রমে কঠোর শাস্তি আরোপের জন্য নতুন আইন প্রণয়ন করার পরিকল্পনা করছে। এছাড়া, পুলিশ বিভাগে নৈতিকতা ও মানবাধিকার প্রশিক্ষণ চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে নাগরিকদের সচেতনতা বৃদ্ধি ও আইনগত কাঠামো শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়েছে।