শুক্রবার রাত ১২.০০ টা থেকে শনিবার দুপুর ১২.০০ টা পর্যন্ত ডিজিটাল ভূমিসেবা (land.gov.bd) সার্ভার টানা বারো ঘণ্টা বন্ধ থাকবে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরবর্তী সেবা প্রদানকারী সংস্থা আজ সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এই সময়ে ভূমি রেজিস্ট্রি, সনদ সংগ্রহ, জমি হস্তান্তর ইত্যাদি অনলাইন সেবা সম্পূর্ণভাবে অপ্রাপ্য থাকবে। সেবা বন্ধের সময়সূচি পূর্বে কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই প্রকাশিত হওয়ায় ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, বিশেষ করে যারা জরুরি জমি লেনদেন বা সনদ প্রয়োজনীয়তা সম্পন্ন করতে চাচ্ছিলেন। এই বন্ধের ফলে সরকারি ও বেসরকারি খাতের বিভিন্ন কার্যক্রমে বিলম্বের সম্ভাবনা বাড়ছে, এবং ডিজিটাল সেবার ওপর নির্ভরশীল নাগরিকদের দৈনন্দিন কাজকর্মে প্রভাব পড়বে। সেইজন্য দ্রুত সমাধান প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
ডিজিটাল ভূমিসেবা ২০১৯ সালে চালু হওয়ার পর থেকে ভূমি রেজিস্ট্রি সংক্রান্ত তথ্যের স্বচ্ছতা ও সেবা গতি বৃদ্ধি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। পূর্বে ২০২২ ও ২০২৩ সালে কয়েকটি পরিকল্পিত রক্ষণাবেক্ষণ কাজের সময় সাময়িক বন্ধের ঘটনা ঘটলেও সেগুলি সাধারণত অল্প সময়ের মধ্যে পুনরায় চালু করা হয়। তবে এইবারের বন্ধটি অপ্রত্যাশিতভাবে দীর্ঘ সময়ের জন্য নির্ধারিত হওয়ায় সিস্টেমের স্থায়িত্ব ও ডেটা নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, সার্ভার বন্ধের সময় ডেটা ব্যাকআপ ও সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথভাবে নিশ্চিত না হলে তথ্য ফাঁস বা সিস্টেম ব্যর্থতার ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে।
ডিজিটাল ভূমিসেবা পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র শ্রীমতি রেহানা হক আজকের বিজ্ঞপ্তি সম্পর্কে মন্তব্য করে বলেন, “প্রযুক্তিগত সমস্যার সমাধান এবং সিস্টেমের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ধরনের বন্ধ অপরিহার্য”। তিনি আরও যোগ করেন, “ব্যবহারকারীদের অসুবিধা কমাতে আমরা অতিরিক্ত সহায়তা কেন্দ্র চালু করেছি এবং জরুরি প্রয়োজনীয়তা সম্পন্ন করতে অফলাইন সেবা প্রদান করা হবে”। অন্যদিকে, ভূমি রেজিস্ট্রার অফিসের প্রধান কর্মকর্তা মি. আব্দুল করিম জানান, “সার্ভার বন্ধের ফলে জমি হস্তান্তর ও সনদ জারি প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হবে, তবে আমরা ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে কাজ চালিয়ে যাব”। সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে এই বন্ধকে নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে; কেউ দ্রুত পুনরায় চালু হওয়ার দাবি করেন, আবার কেউ সিস্টেমের স্থায়িত্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
প্রতিবন্ধকতা দূর করার লক্ষ্যে সরকার ইতিমধ্যে সার্ভার পুনরায় চালু হওয়ার পূর্বে একটি ত্রৈমাসিক রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনা তৈরি করেছে এবং ভবিষ্যতে অপ্রত্যাশিত বন্ধের সম্ভাবনা কমাতে স্বয়ংক্রিয় পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া, ডিজিটাল ভূমিসেবার আইটি বিভাগে অতিরিক্ত মানবসম্পদ ও আধুনিক সাইবার নিরাপত্তা টুলস যুক্ত করা হবে বলে জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ও ব্যবহারকারীদের জন্য বিকল্প সেবা চ্যানেল, যেমন মোবাইল অ্যাপ ও হেল্পডেস্ক, সক্রিয় করে ত্রুটি সমাধানে ত্বরান্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এই উদ্যোগগুলো শেষ পর্যন্ত সেবা ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করে ডিজিটাল রূপান্তরের গতি বজায় রাখতে সহায়তা করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।