প্লট বরাদ্দের লটারি শেষ আট মাসে কোনো তারিখে অনুষ্ঠিত হয়নি, ফলে ১৩২টি শূন্য জমি এখনও অধিকারহীন অবস্থায় রয়ে গেছে। বর্তমানে এই জমিগুলোর বিপরীতে মোট ৬৯৬ জন আবেদনকারী নিবন্ধিত হয়েছে, যাদের প্রত্যেকেরই নিজস্ব প্রত্যাশা ও প্রয়োজন রয়েছে। সরকার সম্প্রতি নতুন আবেদন গ্রহণের উদ্যোগ ঘোষণা করেছে, যাতে অতিরিক্ত আগ্রহী নাগরিকদেরও সুযোগ প্রদান করা যায়। এই পদক্ষেপটি দীর্ঘদিনের অপেক্ষা শেষ করে দ্রুত সম্পদ বণ্টনের লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি শহর পরিকল্পনা ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে গৃহীত হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের অনুমোদনসহ কার্যকর করা হবে। প্রত্যাশী ক্রেতারা দীর্ঘ সময়ের অপেক্ষার পর এখন নতুন সুযোগের স্বাদ পেতে পারেন।

প্লট বরাদ্দের লটারি পূর্বে প্রতি ত্রৈমাসিকে একবার নির্ধারিত হতো, তবে শেষ বছরের শেষার্ধে আর্থিক অডিট ও জমির স্বত্ব সংক্রান্ত আইনি বিরোধের ফলে সময়সূচি পুনর্বিন্যাস করা হয়। কিছু জেলা প্রশাসক প্রক্রিয়াগত জটিলতা ও নথিপত্রের অপ্রতুলতা উল্লেখ করে দেরি হওয়ার কারণ হিসেবে তুলে ধরেছেন। তদুপরি, পূর্বে অনুষ্ঠিত লটারিগুলোর ফলাফল নিয়ে কিছু আবেদনকারী অভিযোগ জানিয়ে আদালতে আপিল দায়ের করেছিল, যা বিচারিক প্রক্রিয়ার দীর্ঘায়ুতে প্রভাব ফেলেছিল। এসব বিষয় মিলিয়ে মোট ৮ মাসের বেশি সময়ে লটারি স্থগিত রাখা হয়।

আবেদনকারীদের মধ্যে বহু পরিবার এই জমিগুলোকে স্বল্পমেয়াদী বাসস্থান বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠার সুযোগ হিসেবে দেখছে। এক আবেদনকারী, মি. রশিদুল ইসলাম, বলেন, “আমাদের পরিবার বহু বছর ধরে এই প্লটের স্বপ্ন দেখছে; দেরি আমাদের জীবনের পরিকল্পনাকে ব্যাহত করেছে।” স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা এই দেরি নিয়ে সরকারের প্রতি সমালোচনা প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। সামাজিক সংস্থা ও নাগরিক অধিকার সংস্থা এই বিষয়টি নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সমাবেশের আহ্বান জানিয়েছে, যেখানে তারা দাবি করছেন যে জমি বরাদ্দের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও সময়মতো সম্পন্ন হওয়া উচিত।

সরকার এখন নতুন আবেদন গ্রহণের পাশাপাশি লটারি পুনরায় নির্ধারণের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটি জমির নথিপত্র যাচাই, আবেদনকারীর যোগ্যতা নির্ধারণ এবং লটারির সময়সূচি চূড়ান্ত করার দায়িত্বে থাকবে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে লটারি অনুষ্ঠিত হবে এবং ফলাফল অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ করা হবে, যাতে সকল আবেদনকারী রিয়েল-টাইমে তথ্য পেতে পারেন। ভবিষ্যতে একই ধরনের দেরি এড়াতে ডিজিটাল আবেদন ব্যবস্থা ও স্বয়ংক্রিয় লটারি সফটওয়্যার প্রয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে, যা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি করবে।