সকাল ৭.৩০ টার দিকে একটি বাস ও একটি পিকআপ ট্রাকের সংঘর্ষে দুজনের প্রাণহানি ঘটেছে। বাসটি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে চলছিল, গতি সীমা অতিক্রম করে। দুর্ঘটনার স্থানে তৎক্ষণাৎ জরুরি সেবা পৌঁছে, কিন্তু বাসের দুই যাত্রী মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখমে মৃত্যুবরণ করেন। পিকআপের চালকও গুরুতর আঘাতে হাসপাতালে ভর্তি হন, তবে তিনি বেঁচে থাকেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছানো পুলিশ ও রোড সেফটি অফিসাররা তৎক্ষণাৎ দুর্ঘটনা স্থল সুরক্ষিত করেন এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেন।
দুর্ঘটনার পটভূমিতে দেখা যায় যে, ওই রাস্তায় সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি গতি সংক্রান্ত দুর্ঘটনা ঘটেছে। বাসের রুটটি ব্যস্ত শহুরে সড়ক, যেখানে গতি সীমা ৪০ কিমি/ঘণ্টা নির্ধারিত, কিন্তু বাসটি ৬০ কিমি/ঘণ্টা অতিক্রম করে চলছিল। পূর্বে এই সড়কে গতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সাইনবোর্ড ও গতি পরিমাপক যন্ত্র স্থাপন করা হয়েছিল, তবু চালক গতি বজায় রাখতে ব্যর্থ হন। এছাড়া, বাসের ড্রাইভারের ক্লান্তি ও দীর্ঘ যাত্রার কারণে মনোযোগ কমে যাওয়ার সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হচ্ছে।
মো. সেলিম মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, “মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখমে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। বাসটি খুব দ্রুত ও বেপরোয়া গতিতে চালানো হচ্ছিল।” পিকআপের চালকও সাক্ষ্য দেন যে, বাসটি হঠাৎ গতি বাড়িয়ে সামনে এসে পড়ে। যাত্রী ও পথচারীরাও ঘটনাস্থলে গমগম করে, কেউ কেউ বাসের গতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পরিবারগুলো শোকাহত অবস্থায় পুলিশকে দ্রুত তদন্তের অনুরোধ জানায়।
পুলিশ ও রোড সেফটি অফিসাররা দুর্ঘটনার কারণ নির্ণয় করতে সাইটে গতি পরিমাপক যন্ত্র ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করছেন। তদন্তে দেখা যাচ্ছে যে, বাসের গতি সীমা অতিক্রমের প্রধান কারণ ছিল চালকের অবহেলা। কর্তৃপক্ষ গতি সীমা কঠোরভাবে প্রয়োগের জন্য অতিরিক্ত গতি পরিমাপক যন্ত্র স্থাপন ও চালকদের জন্য গতি নিয়ন্ত্রণ প্রশিক্ষণ আয়োজনের পরিকল্পনা করছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের দুর্ঘটনা রোধে সড়ক নিরাপত্তা সচেতনতা বৃদ্ধি ও নিয়মিত যানবাহন পরিদর্শনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।