বুধবার সকাল সাতটায় ঢাকা শহরের গোপালপুরে অবস্থিত এক মধ্যম আকারের গৃহে গ্যাস লিকেজের ফলে গ্যাস জমে থাকা অবস্থায় নাসিমা রান্নার জন্য চুলা জ্বালালেন। চুলা জ্বালাতেই তীব্র আগুন গৃহের রান্নাঘর ও পার্শ্ববর্তী কক্ষগুলোতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অল্প সময়ের মধ্যে পুরো বাড়ি ধ্বংসের কাছাকাছি অবস্থায় দগ্ধ হয়ে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু নিশ্চিত হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত জরুরি সেবা কর্মীরা তৎক্ষণাৎ আগুন নিভিয়ে মেয়েটিকে আইসিইউতে স্থানান্তর করেন, তবে শোকের স্রোতে মেয়ের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।

প্রাথমিক তদন্তে জানা যায় গ্যাস সিলিন্ডারের পাইপে লিকেজ ঘটেছিল এবং লিকেজের ফলে গ্যাস রান্নাঘরে সঞ্চিত হয়ে গরম চুলার শিখায় প্রজ্জ্বলিত হয়। গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থা পূর্বে একই এলাকায় লিকেজের অভিযোগ পেয়েও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ না করার অভিযোগে সমালোচিত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে অনুরূপ গ্যাস দুর্ঘটনা ঘটার পরেও গৃহস্থালির নিরাপত্তা সচেতনতা ও নিয়মিত পরিদর্শনের অভাব এখনও সমাধানহীন রয়ে গেছে। এই ঘটনার পটভূমিতে গ্যাস সিলিন্ডার সংরক্ষণ, সঠিক ভেন্টিলেশন এবং চুলা ব্যবহারের সময় সতর্কতা অবহেলিত হওয়াই মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ঘটনা ঘটার পর স্থানীয় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের প্রধান কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করেন এবং মৃতদেহের পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য পরিবারকে জানিয়ে দেন। নিকটবর্তী প্রতিবেশীরা শোক প্রকাশ করে জানান, “এমন দুঃখজনক ঘটনা আমাদের সমাজে গ্যাস নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।” গৃহস্বামী-স্ত্রীর আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে শোকবাণী পাওয়া যায়, যেখানে তারা “অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি থেকে বাঁচতে পারতাম যদি গ্যাস লিকেজের সতর্কতা অনুসরণ করতাম” বলে দুঃখ প্রকাশ করেন। স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগও উল্লেখ করেছে, মেয়ের আইসিইউতে ভর্তি হওয়া সত্ত্বেও শ্বাসযন্ত্রের গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তার জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।

অধিকাংশ ক্ষেত্রে গ্যাস লিকেজের তদন্তের দায়িত্বে থাকা গ্যাস সংস্থা ও স্থানীয় প্রশাসন এখন তৎক্ষণাৎ সমন্বিত কর্মসূচি গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। গৃহস্থালিতে গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার সংক্রান্ত নতুন নির্দেশিকা জারি করা হবে, নিয়মিত লিকেজ পরীক্ষা এবং নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হবে। এছাড়া গৃহস্থালির গ্যাস লিকেজের জন্য জরুরি হটলাইন চালু করে ২৪ ঘন্টা সাড়া নিশ্চিত করা হবে। সরকারও গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থার উপর তদারকি বাড়িয়ে নিরাপত্তা মানদণ্ডের কঠোর প্রয়োগের জন্য বিশেষ কমিটি গঠন করেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুঃখজনক দুর্ঘটনা রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত পরিদর্শন এবং জরুরি সেবা ব্যবস্থার দ্রুত সাড়া নিশ্চিত করা হবে বলে কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছে।