প্রধানমন্ত্রী আজ (তারিখ) জাপান গন্তব্যে রওনা হয়েছেন, যেখানে তিনি জাপানের প্রধানমন্ত্রী ও অর্থ মন্ত্রীসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মেট্রোরেল প্রকল্পের খরচ হ্রাসের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করবেন। সফরের মূল উদ্দেশ্য হল বাংলাদেশে চলমান মেট্রোরেল নির্মাণের অতিরিক্ত ব্যয় কমিয়ে টেকসই আর্থিক কাঠামো গঠন করা, পাশাপাশি জাপানের সঙ্গে বিদ্যুৎ, তথ্য‑প্রযুক্তি ও শিক্ষা ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বিস্তৃত করা। প্রধানমন্ত্রী সফরের সঙ্গে সঙ্গে জাপান থেকে প্রাপ্ত প্রযুক্তি সহায়তা ও বিনিয়োগের শর্তাবলী পুনর্বিবেচনা করার ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
মেট্রোরেল প্রকল্পের খরচ অতিরিক্তভাবে বেড়ে যাওয়ায় সরকারকে আর্থিক চাপের মুখে ফেলেছে; পূর্বে অনুমোদিত বাজেটের তুলনায় বর্তমান খরচ প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই অতিরিক্ত ব্যয়ের মূল কারণ হিসেবে মুদ্রা হ্রাস, কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খলের অস্থিরতা উল্লেখ করা হয়েছে। জাপান পূর্বে বাংলাদেশে রেলওয়ে ও সেতু নির্মাণে প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করেছে, এবং তার উচ্চমানের রেল প্রযুক্তি ও দক্ষতা দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে বিবেচিত। অতএব, জাপানের সঙ্গে পুনরায় আলোচনার মাধ্যমে খরচ কমানো এবং প্রকল্পের সময়সূচি বজায় রাখা সরকারের অগ্রাধিকার।
প্রধানমন্ত্রী সফরের পূর্বে প্রকাশিত বিবৃতিতে তিনি জাপানকে “বিনিয়োগের সঠিক শর্তে মেট্রোরেল প্রকল্পে অংশীদারিত্ব বাড়াতে” আহ্বান জানিয়েছেন। জাপানের অর্থ মন্ত্রীও বাংলাদেশের অবকাঠামো চাহিদা বুঝে, “দ্বিপাক্ষিক প্রযুক্তি স্থানান্তর ও আর্থিক সহায়তা মাধ্যমে প্রকল্পের ব্যয় হ্রাস করা সম্ভব” বলে মন্তব্য করেছেন। দেশের অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, খরচ হ্রাসের মাধ্যমে টিকিটের মূল্য কমে সাধারণ নাগরিকদের উপকার হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে রেল ব্যবহার বাড়বে। পাশাপাশি, পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা জাপান থেকে প্রাপ্ত নতুন রেল প্রযুক্তি ও উপকরণ ব্যবহার করে নির্মাণের গতি ত্বরান্বিত করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন।
সফরের ফলস্বরূপ দুই দেশের মধ্যে একটি যৌথ কমিটি গঠন করা হবে, যা মেট্রোরেল প্রকল্পের খরচ বিশ্লেষণ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং আর্থিক মডেল পুনর্গঠন করবে। এই কমিটি আগামী মাসের মধ্যে প্রথম রিপোর্ট উপস্থাপন করবে এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনী চুক্তি স্বাক্ষরের ভিত্তি তৈরি করবে। সরকার ইতিমধ্যে মেট্রোরেল প্রকল্পের তহবিল সংগ্রহের জন্য আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থার সঙ্গে আলোচনায় অগ্রসর হয়েছে, এবং জাপানের সঙ্গে নতুন ঋণ শর্তাবলী নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাবে। ভবিষ্যতে এই সহযোগিতা দেশের নগর পরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়নকে ত্বরান্বিত করবে এবং দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক স্বনির্ভরতা অর্জনে সহায়তা করবে।