স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আজ জাতীয় জরুরি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছে যে, ৬ মাস থেকে ৯ বছর বয়সী সকল শিশুকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে হামের টিকা পরবর্তী দুই সপ্তাহের মধ্যে সম্পূর্ণ করাতে হবে। এই সিদ্ধান্তটি দেশের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে, কারণ হাম রোগের সম্প্রসারণের ঝুঁকি সাম্প্রতিক সপ্তাহে বৃদ্ধি পেয়েছে। টিকাদান প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে বিশেষ টিকাদান কেন্দ্র স্থাপন, মোবাইল ইউনিট চালু এবং টিকাদান রেজিস্টার আপডেট করা হবে। সরকার এই পদক্ষেপকে জাতীয় স্বাস্থ্যের রক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরেছে।
হাম রোগের পূর্বে বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে রেকর্ড করা হয়নি, তবে প্রতিবেশী দেশগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে রোগের বিস্তার এবং সংক্রমণজনিত মৃত্যুহার বৃদ্ধি পেয়েছে। যৌথ স্বাধীন মূল্যায়ন দল টিকাদান, নজরদারি ও রোগী ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে জরুরি কিছু কাজ এখনই করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। দলটি উল্লেখ করেছে যে, হামের টিকাদান প্রোগ্রাম পূর্বে পরিকল্পনা করা হলেও, পর্যাপ্ত রিসোর্সের অভাব এবং তথ্যের ঘাটতি কারণে সময়মতো বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। তাই, বর্তমান অগ্রাধিকারভিত্তিক টিকাদান পরিকল্পনা রোগের বিস্তার রোধে সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ডাঃ রেহানা হোসেন টিকাদান পরিকল্পনা সম্পর্কে জানিয়ে বলেছেন, “শিশুদের স্বাস্থ্য রক্ষা করা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। টিকাদান প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে আমরা সকল স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে নির্দেশ দিয়েছি।” দেশের শীর্ষ পেডিয়াট্রিক্স বিশেষজ্ঞ ডাঃ সাইফুল ইসলামও টিকাদানের জরুরি প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে বলেছেন, “হাম রোগের ঝুঁকি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশুরা সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়; তাই দ্রুত টিকাদান অপরিহার্য।” অভিভাবকগণও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে টিকাদান কেন্দ্রের নিকটবর্তীতা ও সময়সূচি সম্পর্কে তথ্য চেয়েছেন।
সরকার ইতিমধ্যে টিকাদান সরবরাহের জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থা ও স্থানীয় উৎপাদনকারীদের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করেছে এবং টিকাদান কেন্দ্রের সংখ্যা দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা করেছে। তদুপরি, টিকাদান রেকর্ডের ডিজিটালাইজেশন এবং রিয়েল-টাইম নজরদারি ব্যবস্থা চালু করা হবে যাতে টিকাদান প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত হয়। ভবিষ্যতে, হামের টিকাদানকে রুটিন টিকাদান সূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি, রোগের প্রাদুর্ভাবের পূর্বাভাসমূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য গবেষণা ও পর্যবেক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করা হবে।