ঢাকার কেন্দ্রীয় পার্কে গত রাত্রি থেকে আজ প্রভাত পর্যন্ত এক বিশাল সমাবেশে শহরবন্দী মেঘমালা জপা চলেছে। অংশগ্রহণকারীরা ‘মোদের তৃষিত চোখ’ শ্লোগান দিয়ে পানির সংকট ও মৌলিক অধিকার দাবী করে একত্রিত হয়েছে। সমাবেশে প্রায় দশ হাজারেরও বেশি মানুষ উপস্থিত ছিল; পুরুষ, নারী, শিশু সবাই একসঙ্গে মন্ত্রোচ্চার করে শ্বাস‑প্রশ্বাসের সঙ্গে সঙ্গে দৃশ্যমানভাবে দুঃখের ছায়া ছড়িয়ে দিয়েছে। পুলিশ নিরাপত্তা বজায় রাখতে উপস্থিত থাকলেও কোনো বিশৃঙ্খলা দেখা যায়নি, বরং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সমাবেশের মূল উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়েছে।

এই সমাবেশের পটভূমি হল গত তিন বছর ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অব্যাহত পানির ঘাটতি, কৃষি উৎপাদনে হ্রাস এবং নগর এলাকায় মৌলিক সেবার অভাব। বিশেষ করে গৃহহীন ও দরিদ্র পরিবারগুলোতে পানির দাম বেড়ে যাওয়ায় দৈনন্দিন জীবনে অগ্রাহ্য করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকারী নীতি পরিবর্তনের প্রত্যাশা সত্ত্বেও, বহু বছর ধরে অবকাঠামো উন্নয়নে অগ্রগতি ধীরগতিতে হয়েছে; ফলে জনসাধারণের মধ্যে অসন্তোষের সঞ্চার বেড়েছে। এই পরিস্থিতি শহরের তরুণ সমাজকে সক্রিয়ভাবে প্রতিবাদে অংশ নিতে উদ্বুদ্ধ করেছে।

সমাবেশের আয়োজক সমিতির সভাপতি বলেন, ‘আমরা শুধু মেঘমালা জপা করছি না, বরং আমাদের তৃষিত চোখের মাধ্যমে দেশের নীতি নির্ধারকদের সতর্ক করতে চাই যে, মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত না করা হলে সামাজিক শৃঙ্খলা নষ্ট হবে’। অন্যদিকে, মন্ত্রিপরিষদের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের উপদেষ্টা উল্লেখ করেছেন, ‘সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ত্রৈমাসিকে নতুন জলাশয় নির্মাণ ও পুরনো পাইপলাইন সংস্কার কাজ ত্বরান্বিত করা হবে’। সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে এই সমাবেশকে স্বাগত জানিয়ে বলা হয়েছে, ‘যদি সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেয়, তবে আমাদের উদ্বেগ কমে যাবে’। তবে কিছু বিশ্লেষক সতর্ক করেছেন, ‘অস্থায়ী সমাবেশের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদী সমাধান না হলে সমস্যার পুনরাবৃত্তি হবে’।

অধিকাংশ নিরাপত্তা বাহিনী সমাবেশের সময় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে; তবে কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে জরুরি পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। ঢাকা শহরের পৌরসভা পানি ও স্যানিটেশন বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে অবিলম্বে অল্পবয়সী এলাকায় ট্যাঙ্কার ও পোর্টেবল পানির ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়া, সরকারী বাজেটের মধ্যে অতিরিক্ত তহবিল বরাদ্দ করে আগামী ছয় মাসের মধ্যে ৫০টি নতুন শুদ্ধিকরণ কেন্দ্র চালু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে, জাতীয় পর্যায়ে জল নীতি পুনর্বিবেচনা করে টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হবে, যাতে ‘মোদের তৃষিত চোখ’ আর কোনো সমাবেশের প্রয়োজন না থাকে।