ইন্ডিয়া জোটের বিক্ষোভে থালাপতি বিজয়ের টিভি (টিভি) দল ৩ অক্টোবর যোগদান করে বিরোধী জোটের প্রথম সিইসিবি-বিরোধী কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে। এই পদক্ষেপটি দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, কারণ টিভি দল পূর্বে কোনো বিরোধী জোটের সরাসরি কর্মসূচিতে অংশ নেয়নি। বিক্ষোভের মূল লক্ষ্য সিইসিবি-র নীতিমালা ও কার্যক্রমের প্রতি কঠোর সমালোচনা করা, যা সরকারকে কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলে দিয়েছে। থালাপতি বিজয়ের উপস্থিতি ও বক্তৃতা বিক্ষোভের তীব্রতা বৃদ্ধি করেছে এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই আন্দোলনের প্রতিধ্বনি শোনা যাচ্ছে।

ইন্ডিয়া জোটের গঠন ১ অক্টোবরের পর থেকে দেশের প্রধান বিরোধী দলগুলোর সমন্বয়ে গঠিত, যার মূল উদ্দেশ্য সিইসিবি-র স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। জোটের মধ্যে বিএনপি, আওয়ামী লীগ, এবং অন্যান্য ছোট দলগুলো একত্রিত হয়ে সরকারকে সমালোচনা করার একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে। টিভি দল, যদিও ছোট ও প্রান্তিক রাজনৈতিক শক্তি, তবে তার নেতা থালাপতি বিজয়ের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সক্রিয়তা ও জনসাধারণের সঙ্গে সংযোগের কারণে এই জোটে যোগদান করা স্বাভাবিক বলে বিবেচিত হয়। পূর্বে টিভি দল স্থানীয় স্তরে বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার মোকাবেলায় সক্রিয় ছিল, তবে জাতীয় পর্যায়ে তার অংশগ্রহণ সীমিত ছিল; এই বিক্ষোভে তার অংশগ্রহণ জোটের সমন্বয়কে আরও দৃঢ় করেছে।

বিক্ষোভের সময় থালাপতি বিজয় মিডিয়াতে একাধিক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “সিইসিবি-র স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা আমাদের সর্বোচ্চ লক্ষ্য; ইন্ডিয়া জোটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আমরা এই লক্ষ্যে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছি।” জোটের অন্যান্য নেতারাও টিভি দলের যোগদানকে “বিরোধী শক্তির ঐক্যবদ্ধ চিত্র” হিসেবে প্রশংসা করেছেন। সাধারণ জনগণের মধ্যে এই পদক্ষেপের প্রতি মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে; কিছু সমর্থক এটি সরকারের নীতির বিরুদ্ধে একসাথে দাঁড়ানোর সংকেত হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন, অন্যদিকে কিছু সমালোচক এটিকে রাজনৈতিক কৌশলগত চালনা হিসেবে দেখছেন। সামাজিক মাধ্যমেও টিভি দলের এই পদক্ষেপ নিয়ে বিশাল আলোচনা চলছে, যেখানে হ্যাশট্যাগ #টিভি_ইন্ডিয়া_জোট দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।

সরকারি পক্ষ থেকে বিক্ষোভের পর দ্রুত নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে; পুলিশ তৎক্ষণাৎ এলাকায় উপস্থিত হয়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে। সিইসিবি-র প্রতিনিধিরা বিক্ষোভকে “অবৈধ ও অশান্তিকর” বলে সমালোচনা করে, তবে একই সঙ্গে তারা জোটের দাবিগুলোকে যথাযথভাবে বিবেচনা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ভবিষ্যতে ইন্ডিয়া জোটের আরও বৃহৎ কর্মসূচি পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে পুনর্গঠন করতে পারে। থালাপতি বিজয়ের টিভি দলও আগামী সপ্তাহে আরও জনসাধারণের সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে সিইসিবি-র নীতি সংশোধনের জন্য প্রস্তাবনা উপস্থাপন করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। এই ধারাবাহিকতা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করার সম্ভাবনা তৈরি করছে।