চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য ড. মোহাম্মদ রশিদুল হককে ১২ ঘণ্টা ধরে তার দপ্তরে অবরুদ্ধ করা হয়েছে এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। ঘটনাটি মঙ্গলবার সকাল ৯টায় শুরু হয় এবং বিকেল ৯টায় পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। উপাচার্যকে দপ্তরে আটকে রাখার কাজটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু কর্মচারী ও ছাত্রগোষ্ঠীর সদস্যদের সমন্বয়ে পরিচালিত হয় বলে জানা যায়। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার মাধ্যমে উপাচার্যের যোগাযোগ ও কাজকর্মে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে, যা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বায়ত্তশাসন ও শাসনব্যবস্থার স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। ঘটনাটি জাতীয় পর্যায়ে তীব্র দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং শিক্ষাক্ষেত্রে শাসন কাঠামোর স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিয়ে আলোচনা উস্কে দিয়েছে।

ড. রশিদুল হকের উপাচার্য পদে নিয়োগের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। পূর্বে উপাচার্য নির্বাচনের সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর হস্তক্ষেপ এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিশেষ করে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্রগণ নতুন উপাচার্যের ন্যায়সঙ্গততা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে থাকে। অতীতেও চুয়েটের প্রশাসনিক কাঠামোতে অনিয়মের অভিযোগ উঠে আসা দেখা গেছে, যার ফলে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ এবং কর্মী সমিতির বিরোধিতা দেখা দিয়েছে। এই পটভূমিতে নতুন উপাচার্যের দপ্তরে অবরুদ্ধ হওয়া ঘটনাটি পূর্বের অনিশ্চয়তা ও উত্তেজনার ধারাকে অব্যাহত রাখে।

ঘটনার পর ড. রশিদুল হক তার দপ্তরে আটকে থাকা অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগকে সহায়তা চেয়েছেন এবং মিডিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ফোন সংযোগ পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন। শিক্ষার্থী গোষ্ঠী 'চুয়েট ছাত্র সমিতি' ঘটনাটিকে 'শাসনহীনতা ও স্বৈরাচার' হিসেবে বর্ণনা করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছে। শিক্ষক সমিতি ও কিছু রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে বিরোধী দল, ঘটনাটিকে শিক্ষার স্বায়ত্তশাসন হুমকিরূপে তুলে ধরেছে এবং সরকারের হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছে। সাধারণ জনগণও সামাজিক মাধ্যমে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত শাসনব্যবস্থা প্রত্যাশা করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ঢাকা পুলিশ বিভাগ ঘটনাটির তদন্তের জন্য বিশেষ তদন্ত দল গঠন করেছে এবং অবরুদ্ধকরণে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়টি জানিয়ে উপাচার্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা স্থাপন করার নির্দেশ দিয়েছে। ভবিষ্যতে এমন ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাসন কাঠামোতে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য নতুন নীতি প্রণয়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন যে, এই ঘটনা শিক্ষাক্ষেত্রে স্বায়ত্তশাসনের পুনর্বিবেচনা এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের সীমা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।