বেসামরিক বিমান পরিবহনমন্ত্রী আজ জাতীয় টেলিভিশন চ্যানেলে জানিয়েছেন যে, কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নভেম্বর মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের পথে রয়েছে। এই প্রকল্পের সমাপ্তি দেশের পর্যটন অবকাঠামোকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করবে এবং দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রধান পর্যটন গন্তব্য হিসেবে কক্সবাজারের অবস্থানকে শক্তিশালী করবে। বিমানবন্দরটি ৩৫০ হেক্টর বিস্তীর্ণ জমিতে নির্মিত হবে, যার মধ্যে দুইটি আন্তর্জাতিক টার্মিনাল, আধুনিক রানওয়ে এবং সর্বাধুনিক নেভিগেশন সিস্টেম অন্তর্ভুক্ত থাকবে। উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গে দেশীয় ও বিদেশি পর্যটকগণ সরাসরি কক্সবাজারে পৌঁছাতে সক্ষম হবেন, যা পর্যটন আয় এবং স্থানীয় কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে সরাসরি প্রভাব ফেলবে।

কক্সবাজার বিমানবন্দরের নির্মাণ কাজ ২০১৯ সালে সরকারী অনুমোদন পাওয়ার পর থেকে ধাপে ধাপে অগ্রসর হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ভূমি অধিগ্রহণ, পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন এবং নকশা পরিকল্পনা সম্পন্ন করা হয়। এরপর ২০২১ সালে মূল নির্মাণ কাজ শুরু হয়, যেখানে রানওয়ের পুরুত্ব বৃদ্ধি, টার্মিনালের কাঠামো নির্মাণ এবং সিগন্যাল সিস্টেম স্থাপন করা হয়। প্রকল্পের তহবিল মূলত সরকারী বাজেট এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থার সমর্থনে গৃহীত হয়েছে, যা মোট ১২০০ কোটি টাকার বেশি খরচের অনুমান করা হয়েছে। অতিরিক্তভাবে, স্থানীয় ব্যবসা ও শ্রমিকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে, যা প্রকল্পের সামাজিক দায়িত্বকে আরও দৃঢ় করেছে।

বিমানবন্দর উদ্বোধনের আগে বিভিন্ন সংস্থা ও বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে ইতিবাচক মতামত প্রকাশ পেয়েছে। পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব উল্লেখ করেছেন, “কক্সবাজারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং সমুদ্রতীরের আকর্ষণকে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে সহজলভ্য করা আমাদের প্রধান লক্ষ্য।” স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি বলেন, “বিমানবন্দরের কার্যকরী হওয়া আমাদের হোটেল, রেস্টুরেন্ট এবং হস্তশিল্প শিল্পের জন্য নতুন বাজার খুলে দেবে।” তবে কিছু পরিবেশ সংরক্ষণ কর্মী উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, বিমানবন্দরের বিস্তৃত এলাকা ও ট্রাফিক বৃদ্ধি স্থানীয় ইকোসিস্টেমে চাপ সৃষ্টি করতে পারে, তাই পরিবেশ সুরক্ষার জন্য অতিরিক্ত পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রয়োজন। সামগ্রিকভাবে, জনমত বিমানবন্দরের অর্থনৈতিক সুবিধা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ইতিবাচক, তবে পরিবেশগত দিক থেকে সতর্কতা বজায় রাখার আহ্বান রয়েছে।

অধিকাংশ প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হওয়ায় সরকারী কর্তৃপক্ষ এখনো শেষ পর্যায়ের অনুমোদন ও নিরাপত্তা পরীক্ষায় মনোযোগ দিচ্ছেন। বিমানবন্দর নিরাপত্তা কমিশন আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা মূল্যায়ন সম্পন্ন করবে এবং আন্তর্জাতিক মানের সিকিউরিটি প্রোটোকল প্রয়োগ নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি, বিমান সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রথম ফ্লাইটের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে, যা নভেম্বরের শেষের দিকে শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকার বিমানবন্দরের কার্যক্রমের জন্য একটি বিশেষ তত্ত্বাবধান কমিটি গঠন করেছে, যা পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং গ্রাহক সেবার মান উন্নয়নে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবে। ভবিষ্যতে কক্সবাজারকে আঞ্চলিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান শহরের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করা হবে, যা দেশের বাণিজ্যিক ও পর্যটন সম্ভাবনাকে বহুগুণে বৃদ্ধি করবে।