সৌদি আরবে ১৫ জন বাংগলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে, যাদের পরিচয় সম্প্রতি বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ২০২৪ সালের ২৭ এপ্রিল থেকে ৩১ এপ্রিল পর্যন্ত যেসব শ্রমিক সৌদি আরবের বিভিন্ন প্রদেশে কাজ করছিলেন, তাদের মধ্যে ১২ জনকে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাতে দেখা গেছে, আর ৩ জনকে গৃহহীনতা ও স্বাস্থ্যজনিত জটিলতার কারণে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এই ঘটনাগুলি বাংগলাদেশি শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে এবং দেশের শ্রম মন্ত্রণালয়কে জরুরি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করেছে।

বাংগলাদেশি শ্রমিকদের সৌদি আরবে কর্মসংস্থান বাড়ার পেছনে রয়েছে দেশের শ্রমবাজারের চাহিদা ও বাংগলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি। ২০১০ সাল থেকে সৌদি আরব বাংগলাদেশি শ্রমিকদের প্রধান গন্তব্য হয়ে উঠেছে, এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাদের সংখ্যা ১.২ মিলিয়নেরও বেশি হয়েছে। তবে, এই শ্রমিকরা প্রায়শই কঠোর কাজের শর্ত, কম বেতন, এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাবে ভুগছেন। পূর্বে সৌদি আরবে অনুরূপ দুর্ঘটনাগুলি ঘটেছে, যার ফলে বাংলাদেশ সরকার ও সৌদি আরবের মধ্যে শ্রমিক অধিকার রক্ষার জন্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

বাংলাদেশ দূতাবাসের মুখপাত্র মি. রফিকুল হক জানান, “আমরা পরিবারগুলোর সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগে আছি এবং তাদের মানসিক সমর্থন দিচ্ছি। আমরা সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ত্বরিত তদন্ত ও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানের অনুরোধ জানিয়েছি।” শ্রম মন্ত্রণালয়ের সচিব মিসেস সারা আহমেদও বলেন, “এই ঘটনাগুলি আমাদের শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নতুন নীতি ও বিধি প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।” পরিবারগুলো শোকাহত অবস্থায় থাকলেও তারা সরকারের দ্রুত পদক্ষেপের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।

বাংলাদেশ সরকার জরুরি তদন্ত শুরু করেছে এবং সৌদি আরবের সাথে সমন্বয় করে মৃত শ্রমিকদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের ব্যবস্থা করছে। শ্রম মন্ত্রণালয় নতুন একটি ‘সুরক্ষা ও অধিকার সুরক্ষা’ কর্মসূচি চালু করেছে, যার অধীনে শ্রমিকদের জন্য নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা ও জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সরকার সৌদি আরবের সাথে শ্রমিক চুক্তি পুনর্বিবেচনা করে শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার জন্য কঠোর শর্ত আরোপের পরিকল্পনা করছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের দুর্ঘটনা রোধে উভয় দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।