যমুনা ব্যাংক ফাউন্ডেশন ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এক সিরিজ মেডিক্যাল ক্যাম্প পরিচালনা করেছে। এই ক্যাম্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল দরিদ্র ও অপ্রতুল স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা সম্পন্ন জনগণকে বিনামূল্যে সার্জিক্যাল ও ডায়াগনস্টিক সেবা প্রদান করা। ক্যাম্পে মোট ১,২০০ রোগীর চিকিৎসা করা হয়েছে, যার মধ্যে ৩৫০ জনের জরুরি শল্যচিকিৎসা সম্পন্ন হয়েছে। ক্যাম্পের সমাপ্তি ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে ফাউন্ডেশন এই উদ্যোগের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার সমতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। ক্যাম্পটি ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশালসহ পাঁচটি প্রধান শহরে সমন্বিতভাবে পরিচালিত হয়, যেখানে স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন।
যমুনা ব্যাংক ফাউন্ডেশন ২০০১ সাল থেকে সামাজিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবেশ সংরক্ষণে নানা প্রকল্প চালু করে আসছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা ক্ষেত্রে, ফাউন্ডেশন পূর্বে ২০১৫ সালে প্রথমবারের মতো গ্রামীণ এলাকায় মোবাইল মেডিক্যাল ইউনিট চালু করে ৫,০০০ রোগীর সেবা প্রদান করে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করে। এরপর থেকে প্রতি বছর গ্রীষ্মকালীন ও শীতকালীন সময়ে বিভিন্ন শহরে মেডিক্যাল ক্যাম্পের আয়োজন করে, যেখানে দন্তচিকিৎসা, চোখের পরীক্ষা, গর্ভবতী নারীর স্বাস্থ্যপরীক্ষা এবং শল্যচিকিৎসা সহ নানা সেবা প্রদান করা হয়। এই ধারাবাহিকতা দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার দুর্বলতা দূর করতে এবং নিম্নআয়ের জনগণের মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
ক্যাম্পের সমাপ্তি উপলক্ষে যমুনা ব্যাংক ফাউন্ডেশনের সভাপতি শ্রীমতি রেহানা বেগম ক্যাম্পের সাফল্য নিয়ে গর্ব প্রকাশ করে বলেন, “এই ক্যাম্পের মাধ্যমে আমরা প্রত্যক্ষ করেছি যে, সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা প্রদান করলে রোগীর জীবনমান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়।” ক্যাম্পে অংশগ্রহণকারী রোগী শ্রীমতি সুমাইয়া, যিনি শল্যচিকিৎসার পর দ্রুত সুস্থ হয়ে গেছেন, তিনি বলেন, “আমি আগে কোনো হাসপাতালে গিয়ে সেবা পেতে পারিনি, কিন্তু এই ক্যাম্পে বিনামূল্যে চিকিৎসা পেয়ে আমি কৃতজ্ঞ।” স্থানীয় স্বাস্থ্য অধিকারী ডা. মোহাম্মদ আলীও ক্যাম্পের কার্যকারিতা প্রশংসা করে উল্লেখ করেন, “ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগ আমাদের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে রোগীর সুবিধা বাড়িয়ে দেয়।” সামাজিক কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকরা ক্যাম্পের সংগঠন ও পরিচালনায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন, যা স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার মডেল তৈরি করেছে।
সরকারি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ক্যাম্পের কার্যক্রমকে স্বাগত জানিয়ে ভবিষ্যতে এধরনের বেসরকারি উদ্যোগের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য নীতি সমন্বয়কারী পরিচালক ইমরান হোসেন জানান, “বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আমরা দেশের স্বাস্থ্যসেবা কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে পারি এবং গ্রামীণ এলাকায় সেবা পৌঁছাতে পারি।” যমুনা ব্যাংক ফাউন্ডেশন আগামী বছরেও একই সময়ে কমপক্ষে সাতটি শহরে মেডিক্যাল ক্যাম্প চালু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যেখানে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে টেলিমেডিসিন সেবা যুক্ত করা হবে। এছাড়া, ফাউন্ডেশন স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং রোগ প্রতিরোধে প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজনের পরিকল্পনাও করেছে, যা দীর্ঘমেয়াদে রোগীর স্বাস্থ্যের উন্নয়নে সহায়ক হবে।