একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে একজন ব্যক্তি আটটি পিস্তল হাতে দাঁড়িয়ে দর্শকদের হুমকি দিচ্ছেন, ‘সময় থাকলে পালিয়ে যাও, আমি তুফান’ বলে চিৎকার করছেন। ভিডিওটি ২০২৪ সালের ২৮শে এপ্রিল সন্ধ্যায় ঢাকার একটি ব্যস্ত বাজারে ধারণ করা হয় এবং সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দ্রুত নজরে পড়ে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পথচারীরা তৎক্ষণাৎ পুলিশকে জানায় এবং ভিডিওটি প্রমাণ হিসেবে জমা দেয়। ভিডিওতে দেখা যায় হুমকির আওয়াজে ভীত হয়ে মানুষজন দ্রুত পিছু হটে, কিন্তু কয়েকজন সাহসী ব্যক্তি হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ভিডিওতে দেখা ব্যক্তির পরিচয় এখনো নিশ্চিত হয়নি, তবে সূত্র অনুযায়ী তিনি স্থানীয় একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সদস্য এবং সম্প্রতি তিনি একাধিক জনসমাবেশে হিংসাত্মক বক্তব্য দিয়েছেন। পূর্বে তিনি ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে একটি প্রতিবাদে গুলি চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন, তবে সেই মামলাটি এখনো বিচারাধীন। এই ঘটনাটি ঢাকার রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে, কারণ শহরের বিভিন্ন গোষ্ঠী ইতিমধ্যে সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর থেকে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে।
ঘটনার পরবর্তী দিনগুলোতে স্থানীয় সম্প্রদায়ের সদস্যরা পুলিশের কাছে অভিযোগ জানায় এবং হুমকির বিরুদ্ধে সুরক্ষা চায়। পুলিশ প্রধান শামসুল হক বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলটি সুরক্ষিত করেছি এবং সন্দেহভাজনকে দ্রুত শনাক্ত করার জন্য তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি।’ একই সময়ে, ঘটনায় আক্রান্ত এক পথচারী বলেন, ‘আমি ভয় পেয়েছিলাম, কিন্তু সৌভাগ্যবশত কেউ আহত হয়নি।’ গোষ্ঠীর সদস্যরা সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করা ভিডিওটির বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে দাবি করেন যে এটি মিথ্যা এবং তাদের বিরুদ্ধে গুজব ছড়ানোর প্রচেষ্টা।
পুলিশ এখন সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করতে ফটোগ্রাফিক প্রমাণ এবং ভিডিওর ফ্রেম বিশ্লেষণ করছে। একই সাথে, নিরাপত্তা বিভাগ শহরের প্রধান রাস্তাগুলোতে অতিরিক্ত গার্ড স্থাপন করেছে এবং সিসিটিভি ক্যামেরা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। বিচার বিভাগও হুমকি ও হিংসা সংক্রান্ত মামলায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ আদালত গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনার প্রতিরোধে সরকারী ও বেসরকারি সংস্থাগুলো মিলিত হয়ে জনসচেতনতা কর্মসূচি চালানোর পরিকল্পনা করছে।