কক্সবাজারের মহেশখালী উপকূলে অবস্থিত দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল আজ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে। প্রথম টার্মিনালটি মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি দ্বারা নির্মিত, দ্বিতীয়টি সামিট গ্রুপের অধীনে। উভয় টার্মিনালই ৪০ টন/দিনের রূপান্তর ক্ষমতা রাখে এবং ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ মোট ৮০ টন/দিন গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে দেশব্যাপী সরবরাহের ব্যবস্থা সম্পন্ন হবে। এই উদ্যোগের ফলে গ্যাসের ঘাটতি কমে যাবে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পখাতের জন্য স্থিতিশীল জ্বালানি নিশ্চিত হবে।

বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদা দ্রুত বাড়ছে, বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ঘাটতি দেখা যায়। পূর্বে দেশটি এলএনজি আমদানি করতে স্থায়ী টার্মিনাল ব্যবহার করত, কিন্তু সেগুলো নির্মাণে সময় ও খরচ বেশি ছিল। ভাসমান টার্মিনাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে দ্রুত স্থাপন ও কম খরচে গ্যাস রূপান্তর সম্ভব হচ্ছে। মহেশখালির সমুদ্রতটের নৈকট্য ও পাইপলাইন নেটওয়ার্কের সাথে সংযোগের সুবিধা এই প্রকল্পকে সফল করেছে।

শক্তি মন্ত্রী মি. রফিকুল ইসলাম বলেন, “এই টার্মিনালগুলো আমাদের গ্যাস সরবরাহে নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।” স্থানীয় জেলপালও জোর দিয়ে বলেন, “মহেশখালির মানুষ এখন গ্যাসের অভাবে ভোগা সমস্যার সমাধান পেতে চলেছে।” সামিট ও এক্সিলারেট এনার্জির প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেন, “আমরা বাংলাদেশে টেকসই জ্বালানি সমাধান আনতে গর্বিত।”

সরকারি বিভাগগুলো এখন টার্মিনালগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও পাইপলাইন সম্প্রসারণের কাজ দ্রুততর করছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে ১২০ টন/দিন গ্যাস সরবরাহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া, গ্যাসের মূল্য স্থিতিশীল রাখার জন্য সরকার নতুন নীতি গ্রহণ করবে। দীর্ঘমেয়াদে এই প্রকল্প দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং শিল্পখাতের উন্নয়নে সহায়ক হবে।