অর্থনৈতিক সংস্কার সংক্রান্ত সর্বশেষ সমাবেশে নাহিদ ইসলাম, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও গবেষক, সরকারকে তীব্র সমালোচনা করে জানান যে, চলমান সংস্কার প্রক্রিয়াকে ‘ভন্ডুল’ করে দিতে চাওয়া হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে সরকার যে নীতি পরিবর্তন ও বিধান প্রণয়ন করেছে, তা মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে জনসাধারণের স্বার্থকে ক্ষুণ্ন করছে। তার এই মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে মিডিয়ায় তীব্র আলোচনা শুরু হয়, যেখানে নীতি‑নির্ধারকদের নিকট থেকে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।
বছরের পর বছর ধরে বাংলাদেশে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বহু সংস্কার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ২০১৯ সালে আর্থিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, কর ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়নের জন্য ‘স্মার্ট রিফরম’ প্রকল্প চালু হয়। এরপর ২০২১ সালে বাণিজ্যিক নীতি পুনর্গঠন, মুদ্রা নীতি সমন্বয় এবং সরকারি খাতের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য একাধিক আইন প্রণয়ন করা হয়। এসব সংস্কার ধারাবাহিকভাবে আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থার সমর্থন পেয়েছে এবং দেশের জিডিপি বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
নাহিদ ইসলামের মন্তব্যের পর সরকারী প্রতিনিধিরা দ্রুতই ব্যাখ্যা দেন যে, সংস্কার প্রক্রিয়ায় কোনো ‘ভন্ডুল’ করার ইচ্ছা নেই, বরং তা দেশের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সংশোধনগুলো বাজারের স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। তদুপরি, বেসরকারি খাতের নেতারা এবং অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা এই মন্তব্যকে ‘গঠনমূলক সমালোচনা’ হিসেবে স্বীকার করে, সংস্কার বাস্তবায়নে আরও স্বচ্ছতা ও জনসামাজিক অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। সাধারণ জনগণের মধ্যেও এই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ দেখা যায়, বিশেষত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও কৃষকদের মধ্যে নীতি পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।
প্রতিবেদন প্রকাশের পর সরকার দ্রুতই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে নির্দেশ দেন, যাতে সংস্কার নীতির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় সকল স্টেকহোল্ডারের মতামত অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং নীতি পরিবর্তনের প্রভাবের ওপর পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হয়। এছাড়া, নীতি পর্যালোচনা কমিটি গঠন করে, যা প্রতি ত্রৈমাসিকে অগ্রগতি রিপোর্ট প্রকাশ করবে এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনী প্রস্তাব করবে। ভবিষ্যতে সরকার দাবি করে, সংস্কার প্রক্রিয়াকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, স্বচ্ছ এবং টেকসই করে তোলার জন্য আইনি কাঠামো ও তদারকি ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা হবে, যাতে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যায়।