ঢাকা শহরের জাহান্না পার্কে গত সপ্তাহান্তে আদিবাসী সম্প্রদায়ের খাদ্য ও শস্য মেলা উদ্বোধন করা হয়। মেলাটিতে দেশের বিভিন্ন আদিবাসী গোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী খাবার, শস্যজাত পণ্য এবং হস্তশিল্পের প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। মেলাটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠান রাষ্ট্রপতি মহোদয়ের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে প্রায় দুই হাজার দর্শক অংশগ্রহণ করেন। মেলাটির প্রধান লক্ষ্য ছিল আদিবাসী কৃষি পদ্ধতি ও পুষ্টিকর খাবারের প্রচার করা, পাশাপাশি তাদের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা বৃদ্ধি করা।

এই মেলার পটভূমি হল দেশের আদিবাসী জনগণের ঐতিহ্যবাহী কৃষি পদ্ধতি ও খাদ্য সংস্কৃতি দীর্ঘদিনের অবহেলার শিকার হয়েছে। সরকার ২০১৯ সাল থেকে আদিবাসী উন্নয়ন নীতি অনুসরণ করে বিভিন্ন সহায়তা প্রকল্প চালু করেছে, যার মধ্যে কৃষি প্রশিক্ষণ, বীজ সরবরাহ এবং বাজার সংযোগের ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত। পূর্বে চট্টগ্রাম ও সিলেটের কিছু অঞ্চলে ছোট আকারের মেলা অনুষ্ঠিত হলেও, রাজধানীতে বৃহৎ মেলা আয়োজনের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে আদিবাসী সংস্কৃতির পরিচিতি বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

মেলার আয়োজক কমিটি প্রধানের মতে, এই মেলা আদিবাসী কৃষকদের সরাসরি ভোক্তার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে সহায়তা করবে এবং তাদের উৎপাদনকে বাজারে মূল্যায়ন করতে সক্ষম করবে। অংশগ্রহণকারী কৃষক ও হস্তশিল্পীরা তাদের পণ্য বিক্রির পাশাপাশি প্রশিক্ষণ সেশনে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন। দর্শকরা মেলায় প্রদর্শিত বিভিন্ন ধরণের গম, ধান, জোয়ার এবং ঐতিহ্যবাহী খাবার যেমন হররো, পিটা, গুরা ইত্যাদি প্রশংসা করেছেন। স্থানীয় মিডিয়া ও সামাজিক মাধ্যমেও মেলার ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া ব্যাপকভাবে প্রকাশ পেয়েছে।

মেলার সমাপ্তি অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি উল্লেখ করেন যে, ভবিষ্যতে আদিবাসী কৃষি পণ্যকে রপ্তানি বাজারে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিশেষ নীতি প্রণয়ন করা হবে এবং মেলার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া, সরকার আদিবাসী কৃষকদের জন্য ক্রেডিট সুবিধা, সাশ্রয়ী মূল্যের সেচ ব্যবস্থা এবং ডিজিটাল বাজার সংযোগের জন্য নতুন প্রকল্প চালু করার পরিকল্পনা করেছে। এই উদ্যোগগুলো আদিবাসী সম্প্রদায়ের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামাজিক সংহতি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।