দিল্লির পুরোনো জামা মসজিদে গত রোজার সন্ধ্যায় জুমার নামাজের আয়োজন করা হয়, যদিও মসজিদে বিদ্যুৎ ও পানির সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ ছিল এবং আশেপাশের বহু বাসিন্দা উচ্ছেদের হুমকির মুখে বসে ছিলেন। মসজিদে প্রবেশ করা মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যরা অন্ধকারে মোমবাতি জ্বালিয়ে নামাজের আয়োজন করেন, যা শহরের সাম্প্রতিক অস্থিরতার মধ্যে ধর্মীয় ঐক্যের এক অনন্য দৃশ্য উপস্থাপন করে। এই ঘটনা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, কারণ এটি ধর্মীয় স্বাধীনতা, মানবিক সহনশীলতা এবং নগর পরিকল্পনার সমস্যার সমন্বয়কে একসাথে তুলে ধরেছে।
মসজিদটি ১৯২১ সালে নির্মিত হয় এবং ঐতিহাসিকভাবে দিল্লির মুসলিম সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে কাজ করেছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শহরের দ্রুত নগরায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়নের ফলে মসজিদটির আশেপাশের এলাকায় বড় বড় নির্মাণ প্রকল্প শুরু হয়, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের উচ্ছেদের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে। বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার মূল কারণ হল মসজিদটি অবৈধভাবে শহরের নতুন রোড পরিকল্পনার অধীনে অন্তর্ভুক্ত করা, ফলে সেবা প্রদানকারী সংস্থা নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। এই পটভূমিতে মসজিদটি একাধিকবার আদালতে রক্ষা পেয়েছে, তবে বাস্তবায়ন পর্যায়ে এখনও বাধা রয়েছে।
মসজিদ পরিচালনা পরিষদের প্রধান উম্মেদ আলী বলেন, "এই কঠিন সময়ে আমরা আল্লাহর প্রতি আমাদের আস্থা হারাইনি; মোমবাতি জ্বালিয়ে নামাজের আয়োজন আমাদের ঐক্য ও দৃঢ়তা প্রকাশের এক মাধ্যম।" স্থানীয় নাগরিক অধিকার সংস্থা ও মানবাধিকার কর্মীও মসজিদে প্রবেশের অধিকার রক্ষার পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে, নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা জানান, "নিরাপত্তা ও জনসেবা নিশ্চিত করার জন্য বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে; তবে আমরা দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।" সাধারণ জনগণের মধ্যে এই ঘটনার প্রতি মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়; কিছু মানুষ ধর্মীয় স্বাধীনতার পক্ষে সাড়া দেয়, আবার অন্যরা নগর উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে।
অধিকর্তা এখন মসজিদটির অবকাঠামো পুনরুদ্ধার এবং উচ্ছেদের ঝুঁকি কমাতে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। দিল্লি মিউনিসিপাল কর্পোরেশন ও হাউজিং ডেভেলপমেন্ট অথরিটি একত্রে মসজিদে অস্থায়ী বিদ্যুৎ জেনারেটর ও পানির ট্যাঙ্ক স্থাপন করবে, যাতে ভবিষ্যতে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে চলতে পারে। পাশাপাশি, মসজিদটির আশেপাশের বাসিন্দাদের পুনর্বাসন পরিকল্পনা ত্বরান্বিত করা হবে এবং ঐতিহাসিক সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী মসজিদকে সুরক্ষিত করার জন্য বিশেষ আইন প্রণয়ন করা হবে। এই উদ্যোগগুলো যদি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নগর উন্নয়নের মধ্যে সমন্বয় স্থাপনের একটি মডেল গড়ে উঠতে পারে, যা দেশের অন্যান্য শহরে অনুকরণীয় হতে পারে।