সিডনির বহুমুখী সাংস্কৃতিক মঞ্চে সম্প্রতি মৌসুমী‑জনের নতুন গীত ‘লেট মি ফ্লাই’ সাড়া ফেলেছে। গানটি অভিবাসী নারীদের সংগ্রাম ও স্বপ্নকে সুরে বুনে উপস্থাপন করেছে, যা শ্রোতাদের হৃদয়ে গভীর প্রভাব ফেলেছে। গীতের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি সিডনি আর্ট গ্যালারির প্রধান হলের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মিডিয়া ব্যাপকভাবে উপস্থিত ছিল। গানের লিরিক্সে নারীর স্বাধীনতা, আত্মবিশ্বাস এবং নতুন দেশে আত্মপ্রকাশের আকাঙ্ক্ষা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে, যা বর্তমান বৈশ্বিক অভিবাসন আলোচনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই সাফল্যটি শুধু সঙ্গীতের নয়, সামাজিক সচেতনতার দিকেও এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত।

‘লেট মি ফ্লাই’ গানের সৃষ্টির পটভূমি বহু বছর আগে শুরু হয়। মৌসুমী, যিনি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে সামাজিক বিষয়ক সঙ্গীত রচনা করে আসছেন, এবং জন, যিনি অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসকারী বাঙালি গায়ক-গীতিকার, একত্রে অভিবাসী নারীদের জীবনের বাস্তবতা পর্যবেক্ষণ করে এই গীতের ধারণা গড়ে তোলেন। তাদের গবেষণায় দেখা যায়, নতুন দেশে বসবাসকারী নারীরা প্রায়শই ভাষা, সংস্কৃতি ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন, যা তাদের স্বপ্নকে দমিয়ে রাখে। এই বাস্তবতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তারা গানের লিরিক্সে নারীর আত্মবিশ্বাস পুনর্গঠন এবং স্বাধীনতার পথে উড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। গানের সুরের জন্য তারা ঐতিহ্যবাহী বাংলা সুরের সঙ্গে আধুনিক পপ রিদমের সমন্বয় ঘটিয়ে একটি অনন্য সঙ্গীত শৈলী তৈরি করেন।

গানটি প্রকাশের পর সিডনির বাঙালি সম্প্রদায় এবং স্থানীয় নারী অধিকার সংগঠনগুলো থেকে উষ্ণ স্বাগত পেয়েছে। গীতের প্রথম পারফরম্যান্সে উপস্থিত এক তরুণ নারী বলেছিলেন, ‘এই গানটি আমার হৃদয়ের কথা, আমি নিজের স্বপ্নকে আবার উড়তে দেখছি’। এছাড়া, সিডনি শহরের সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিও গানের সামাজিক গুরুত্ব তুলে ধরে মন্তব্য করেন যে, ‘অভিবাসী নারীদের কণ্ঠস্বরকে সঙ্গীতের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরা একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ’। সামাজিক মিডিয়ায় গানের ভিডিও শেয়ার করা পোস্টগুলোতে হাজার হাজার লাইক ও মন্তব্যের স্রোত দেখা যায়, যেখানে বেশিরভাগই গানের বার্তা ও সুরের প্রশংসা করে। এই প্রতিক্রিয়া গানের সৃষ্টিকর্তাদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও সমানধর্মী প্রকল্পের সূচনা করতে পারে।

গানের সাফল্যের পর মৌসুমী‑জন দলটি সিডনি ও অস্ট্রেলিয়ার অন্যান্য শহরে ধারাবাহিক কনসার্টের পরিকল্পনা করেছে, যাতে আরও বেশি অভিবাসী নারীর গল্প শেয়ার করা যায়। এছাড়া, অস্ট্রেলিয়ার সংস্কৃতি ও শিল্প মন্ত্রণালয় গানের ভিত্তিতে একটি কর্মশালা চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যেখানে নারীদের সৃজনশীল প্রকাশের সুযোগ প্রদান করা হবে। ভবিষ্যতে এই ধরনের সঙ্গীত প্রকল্পকে সরকারী সহায়তা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে আরও বিস্তৃত করা হবে বলে আশা করা যায়। এভাবে ‘লেট মি ফ্লাই’ কেবল সঙ্গীতের সীমানা ছাড়িয়ে সামাজিক পরিবর্তনের এক সেতু হিসেবে কাজ করবে, এবং অভিবাসী নারীদের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপান্তরিত করার পথে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।