ঢাকার উত্তরের বাণিজ্যিক এলাকায় নতুনভাবে খোলা ‘মুরগি কফি হাউস’ নামের ক্যাফে গতকালই উদ্বোধন করেছে, যেখানে গ্রাহককে কফি পান করার সঙ্গে সঙ্গে মুরগির টুকরা পরিবেশন করা হয়। এই অনন্য ধারণা স্থানীয় মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং সামাজিক মাধ্যমে বিশাল আলোচনার সৃষ্টি করে। ক্যাফের মালিকের মতে, এই মডেলটি গ্রাহকদের খাবার ও পানীয়ের অভিজ্ঞতাকে একসাথে উপভোগের সুযোগ দেয়, ফলে খাবার‑পানীয় শিল্পে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্ট অতিথিরা এই সেবাকে ‘সৃজনশীল ও সাহসিক’ বলে প্রশংসা করেন, যা শহরের রন্ধন‑সংস্কৃতিতে নতুন রঙ যোগ করবে।
ক্যাফের পেছনে রয়েছে একটি দীর্ঘ পরিকল্পনা, যেখানে মালিক শেফ রাহুল আহমেদ প্রথমে রেস্টুরেন্টে মুরগি ভাজা ও কফি বিক্রি করতেন, পরে তিনি লক্ষ্য করেন যে গ্রাহকরা দুটোই একসাথে চেখে দেখতে চায়। এ থেকেই ‘মুরগি কফি হাউস’ের ধারণা জন্ম নেয়। তিনি বলেন, আধুনিক শহুরে মানুষের ব্যস্ত জীবনে দ্রুত ও স্বাদযুক্ত খাবার চাহিদা বাড়ছে, আর কফি ও মুরগি দুটোই জনপ্রিয়, তাই দুটিকে একত্রে সংযুক্ত করা স্বাভাবিক। এছাড়া, ক্যাফে স্থানীয় কৃষক থেকে তাজা মুরগি ও জৈব কফি বিন সংগ্রহ করে, যা স্থানীয় অর্থনীতিকেও সমর্থন করে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত গ্রাহক ও বিশ্লেষকরা এই সেবার প্রতি মিশ্র প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেন। কিছু গ্রাহক মুরগির স্বাদকে কফির তিক্ততার সঙ্গে মেলাতে প্রশংসা করেন এবং বলেন, এটি একধরনের নতুন স্বাদ অভিজ্ঞতা। অন্যদিকে, কিছু স্বাস্থ্য সচেতন নাগরিক মুরগি ও কফি একসাথে খাওয়ার সম্ভাব্য হজম সমস্যার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ক্যাফের শেফ রাহুল বলেন, তিনি মুরগির টুকরাকে হালকা মেরিনেট করে এবং কফি পেশ করার আগে যথাযথ তাপমাত্রায় পরিবেশন করেন, যাতে হজমে কোনো সমস্যা না হয়। স্থানীয় রেস্টুরেন্ট সমিতি এই উদ্যোগকে রন্ধন‑সংস্কৃতির বৈচিত্র্য বৃদ্ধি হিসেবে স্বাগত জানায়, তবে তারা স্বাস্থ্যবিধি ও পুষ্টিকর মান বজায় রাখার আহ্বান জানায়।
অধিকাংশ স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা সংস্থা এই নতুন মডেলকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ঢাকা শহরের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ইতিমধ্যে ক্যাফের রান্না প্রক্রিয়া, স্যানিটেশন ও উপাদানের গুণগত মান যাচাই করার জন্য অডিট নির্ধারণ করেছে। ক্যাফের মালিক রাহুল আহমেদ জানান, তিনি সকল সরকারি নির্দেশনা মেনে চলতে প্রস্তুত এবং ভবিষ্যতে মেনুতে আরও বৈচিত্র্য যোগ করার পরিকল্পনা করছেন, যেমন মুরগি‑কফি স্যান্ডউইচ ও ডেজার্ট। এই উদ্যোগের সফলতা যদি স্থায়ী হয়, তবে দেশের অন্যান্য শহরে অনুরূপ মডেল গড়ে উঠতে পারে, যা রন্ধন‑সংস্কৃতির নতুন দিগন্ত উন্মোচিত করবে।