মেহেরপুরের এক ছোট গ্রামাঞ্চলে শখের বশে আনারকলি চাষে সফলতা অর্জনকারী চাষি মিঠু (মিথু) আজ দেশের কৃষি জগতে নতুন আলো ছড়িয়েছেন। ২০২৩ সালের শীতকাল থেকে তিনি ১.৫ একর জমিতে আনারকলি রোপণ শুরু করেন এবং মাত্র এক বছর পরই ৪৫০ কিলোগ্রাম তাজা আনারকলি সংগ্রহ করতে সক্ষম হন। এই ফলন স্থানীয় বাজারে প্রচলিত আনারকলির তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ মূল্য অর্জন করেছে, ফলে মিঠুর পরিবারিক আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তার এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং শখকে আয়োজনে রূপান্তর করার সম্ভাবনা তুলে ধরেছে।
আনারকলি বাংলাদেশে ঐতিহ্যবাহী ফসল নয়; দেশের অধিকাংশ অংশে উষ্ণমণ্ডলীয় জলবায়ু ও মাটির গঠন আনারকলির চাষের জন্য উপযোগী নয় বলে ধারণা করা হয়। মিঠু, যিনি মূলত ধান ও গম চাষে জড়িত, ২০১৯ সালে বিদেশে ভ্রমণের সময় আনারকলির বাণিজ্যিক সম্ভাবনা সম্পর্কে জানেন। তিনি ফিরে এসে স্থানীয় কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের সঙ্গে পরামর্শ করে, মাটির পিএইচ মান সামঞ্জস্য, সেচ ব্যবস্থা এবং সঠিক রোপণ সময় নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেন। এরপর তিনি প্রায় এক বছর ধরে মাটি প্রস্তুতি, সার প্রয়োগ এবং রোগনিয়ন্ত্রণে বিশেষ যত্ন নিয়ে কাজ চালিয়ে যান।
মিঠু বলেন, “শখের কাজকে আয়ের উৎসে রূপান্তর করা আমার স্বপ্ন ছিল, আর আজ তা বাস্তবে পরিণত হয়েছে।” তার প্রতিবেশী ও স্থানীয় কৃষকরা মিঠুর এই উদ্যোগকে উদাহরণস্বরূপ গ্রহণ করছেন এবং নিজেদের জমিতে আনারকলি চাষের পরিকল্পনা করছেন। মেহেরপুরের উপজেলা কৃষি অফিসের প্রধান, মো. রশিদুল ইসলাম, মিঠুর সাফল্যকে “কৃষি উদ্ভাবনের মডেল” হিসেবে প্রশংসা করে জানান, সরকারী সহায়তা ও প্রশিক্ষণ পেতে আগ্রহী সকল কৃষককে এই ধরনের উদ্যোগে উৎসাহিত করা উচিত। স্থানীয় বাজারের বিক্রেতা ও গ্রাহকরা তাজা, সুগন্ধি আনারকলির স্বাদে মুগ্ধ হয়ে, দামেও স্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এখন মিঠুর মতো শখের চাষকে বাণিজ্যিক স্তরে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিশেষ কর্মসূচি চালু করেছে। তারা আনারকলি চাষের জন্য উপযুক্ত জাতের নির্বাচন, আধুনিক সেচ প্রযুক্তি এবং রোগনিয়ন্ত্রণের প্রশিক্ষণ প্রদান করবে। এছাড়া, আঞ্চলিক বাজারে সরাসরি বিক্রয়ের জন্য সমবায় গঠন ও ক্রেডিট সুবিধা প্রদানেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে মিঠুর মতো উদ্ভাবনী চাষীকে সমর্থন করে দেশের কৃষি উৎপাদন বৈচিত্র্য বৃদ্ধি পাবে, রপ্তানি সম্ভাবনা প্রসারিত হবে এবং গ্রামীণ আয় বৃদ্ধি পাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।