ইমরান খান তার রাজনৈতিক সংগ্রামের শেষ পর্যায়ে মাওলানা ডিজেলকে প্রধান সহযোগী হিসেবে গ্রহণ করে গোয়েন্দা সংস্থা ও জাতীয় জবাবদিহি ব্যুরো (ন্যাব)কে মাওলানার দুর্নীতির প্রমাণ অনুসন্ধানে নিযুক্ত করেন। এই পদক্ষেপটি দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি করেছে এবং দেশের শাসনব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও ন্যায়ের প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। ইমরান খানের এই কৌশলগত সিদ্ধান্তের তাৎক্ষণিক প্রভাবের মধ্যে রয়েছে বিরোধী দলের তীব্র সমালোচনা এবং জনগণের মধ্যে ন্যায়ের প্রত্যাশা বৃদ্ধি।
ইমরান খানের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের শুরুর দিক থেকে তিনি বহুবার ক্ষমতার কাঠামোর সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছেন। মাওলানা ডিজেল, যিনি ধর্মীয় ও সামাজিক ক্ষেত্রে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব, পূর্বে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে জড়িত ছিলেন এবং তার নিকটবর্তী কিছু ব্যবসায়িক লেনদেনের ওপর সন্দেহের ঘূর্ণি ঘুরে চলেছে। অতএব, ইমরান খান এই সন্দেহকে রাজনৈতিক সুবিধায় রূপান্তর করে মাওলানার বিরুদ্ধে প্রমাণ সংগ্রহের জন্য গোয়েন্দা সংস্থা ও ন্যাবকে কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নেন। এই পটভূমি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ক্ষমতার ব্যবহার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।
ইমরান খান প্রকাশ্যে বলেন, “মাওলানা ডিজেলকে দোষারোপের ভিত্তি তৈরি করতে প্রমাণের প্রয়োজন, তাই আমরা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সম্পূর্ণ সহযোগিতা চাই।” মাওলানা ডিজেল তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করে, “এই অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কূটকৌশল।” বিরোধী দলও তীব্র সমালোচনা করে, “সরকারের এই পদক্ষেপ দুর্নীতির চেয়ে রাজনৈতিক হেরফেরের দিকে বেশি ঝুঁকে আছে।” সাধারণ জনগণের মধ্যে এই ঘটনার প্রতি মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়; কিছুজন ন্যায়ের প্রত্যাশা প্রকাশ করে, আবার অন্যরা রাজনৈতিক কূটনীতির প্রতি সন্দেহ প্রকাশ করে।
জাতীয় জবাবদিহি ব্যুরো ও গোয়েন্দা সংস্থা এখন মাওলানা ডিজেলের আর্থিক লেনদেন, সম্পত্তি ও সংযুক্ত ব্যবসার ওপর বিস্তারিত তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। প্রাথমিক রিপোর্টে কিছু সন্দেহজনক লেনদেনের সূচক পাওয়া গেছে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য আরও প্রমাণের প্রয়োজন। সরকার এই তদন্তকে স্বচ্ছতা ও ন্যায়ের ভিত্তিতে পরিচালনা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। এই প্রক্রিয়া শেষ হলে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে স্বচ্ছতা ও ন্যায়ের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।