জাপানের উৎপাদন শিল্প, নির্মাণ, কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং সেবা‑প্রবীণ পরিচর্যা খাতে কর্মীর চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশের বয়সসীমা বৃদ্ধির ফলে শ্রমশক্তি হ্রাস এবং জন্মহার হ্রাসের সঙ্গে সঙ্গে শূন্যস্থান পূরণে বিদেশি কর্মী গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তীব্রতর হয়েছে। তবে বাংলাদেশকে লক্ষ্য করে চারটি মূল ভুল ধারণা এখনও প্রচলিত—প্রথমত, বাংলাদেশী শ্রমিকের দক্ষতা জাপানের প্রযুক্তিগত চাহিদা পূরণে অপর্যাপ্ত; দ্বিতীয়ত, ভাষা ও সংস্কৃতি পার্থক্য কর্মস্থলে সমন্বয়কে কঠিন করে; তৃতীয়ত, ভিসা প্রক্রিয়া জটিল ও সময়সাপেক্ষ; চতুর্থত, শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা যায় না। এই ভুল ধারণা সত্ত্বেও, উভয় দেশের সরকার ও শিল্পক্ষেত্র যৌথভাবে সমাধান খুঁজছে।
জাপানের জনসংখ্যা গড়ে ৪৫ বছর অতিক্রম করেছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে কর্মক্ষম বয়সের জনসংখ্যা ২০% কমে যাবে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। অতএব, সরকার ২০১৯ সালে 'বিশেষ দক্ষতা' ভিসা ও 'আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ' প্রোগ্রাম চালু করে বিদেশি শ্রমিকের প্রবাহ সহজ করার চেষ্টা করেছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ ২০২৫ সালের মধ্যে শ্রমশক্তি ১ কোটি ৫০ লক্ষের উপরে পৌঁছাবে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশই উৎপাদন ও সেবা খাতে কাজের জন্য প্রস্তুত। সরকার 'দক্ষতা উন্নয়ন' প্রকল্পের মাধ্যমে ইংরেজি, জাপানি ভাষা ও প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ প্রদান করে আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা মেটাতে সচেষ্ট। এই পটভূমি উভয় দেশের শ্রম নীতির সমন্বয়কে সম্ভব করে তুলেছে।
জাপানের শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি শিনোবু হোশি বলেন, “বাংলাদেশী কর্মীর কাজের নৈতিকতা ও শারীরিক সক্ষমতা আমাদের প্রত্যাশার চেয়ে উচ্চমানের” এবং ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুততর করার জন্য বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের বিদেশি কর্মী বিষয়ক মন্ত্রী রেজাউল করিম জাপান‑বাংলাদেশ শ্রম চুক্তি বাস্তবায়নে “দুই দেশের সংহতি ও পারস্পরিক সুবিধা” জোর দিয়ে বলেছেন। জাপানি নির্মাণ সংস্থার ব্যবস্থাপক তানাকা কেজি উল্লেখ করেন, “প্রশিক্ষিত বাংলাদেশী শ্রমিকরা গৃহস্থালী কাজের পাশাপাশি উচ্চ প্রযুক্তি নির্মাণে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারে”। একই সঙ্গে, শ্রমিক সমিতি ও পরিবারগুলো নিরাপত্তা, বেতন ও সামাজিক সুরক্ষার ব্যাপারে আশ্বাস চায়।
দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পর, জাপান ও বাংলাদেশ সরকার ২০২৪ সালের শেষের মধ্যে ‘দক্ষতা উন্নয়ন ও ভিসা সহজীকরণ’ চুক্তি স্বাক্ষর করার পরিকল্পনা করেছে। এই চুক্তিতে জাপানীয় কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন, জাপানি ভাষা ও নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ প্রদান এবং কর্মীর কাজের শর্তাবলী পর্যবেক্ষণ করার অনুমতি থাকবে। পাশাপাশি, বাংলাদেশ সরকার শ্রমিকদের জন্য বীমা, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবারিক সহায়তা নিশ্চিত করতে নতুন আইন প্রণয়ন করবে। বিশ্লেষকরা আশা করেন, এই সমন্বিত পদক্ষেপগুলো জাপানের শ্রম ঘাটতি কমাতে এবং বাংলাদেশী কর্মীর আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।