দিল্লি মেট্রোর ৪৫টি স্টেশন শুক্রবার রাত থেকে গতকাল দিনভর সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়। শহরের প্রধান রেলপথে সাতস্তরীয় ব্যারিকেড স্থাপন করা হয় এবং প্রায় ৩,০০০ সিসি ক্ষমতার সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের মাধ্যমে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। এই সময়ে কোনো যাত্রীকে স্টেশন থেকে নামতে বা উঠতে দেওয়া হয়নি, ফলে লক্ষাধিক দৈনিক যাত্রী ভ্রমণ পরিকল্পনা ব্যাহত হয়। বন্ধের সময়কাল প্রায় একদিনের বেশি ছিল, যা রাজধানীর চলাচল ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে।
এই বন্ধের পেছনে ‘যন্তর মন্তর’ নামে একটি গোষ্ঠীর সংগঠিত প্রতিবাদ রয়েছে। গোষ্ঠীটি গত কয়েক মাস ধরে দিল্লি মেট্রোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা ও কর্মচারীর কল্যাণের অবহেলা নিয়ে দাবি তুলছে। পূর্বে একই গোষ্ঠী কয়েকটি ছোটো রেলস্টেশন বন্ধের মাধ্যমে তাদের দাবি তুলে ধরেছে, তবে এইবারের পদক্ষেপটি সর্বোচ্চ মাত্রার নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও বৃহৎ পরিসরের ব্যারিকেড স্থাপন করে তাদের দৃঢ় সংকল্প প্রকাশ করেছে। এই ধরনের প্রতিবাদে শহরের পূর্বে ঘটিত কিছু সন্ত্রাসী হামলা ও নিরাপত্তা লঙ্ঘনের স্মৃতি পুনরুজ্জীবিত হয়েছে, যা কর্তৃপক্ষের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে।
দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন (ডিএমআরসি) ও দিল্লি পুলিশ উভয়ই ঘটনাস্থলে তৎক্ষণাৎ উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে। ডিএমআরসির মুখপাত্র বলেছিলেন, “নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত যাত্রীদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে না ফেলে আমরা সেবা বন্ধ রাখব।” অন্যদিকে, ‘যন্তর মন্তর’ গোষ্ঠীর নেতারা দাবি করেছেন, “সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকলে মেট্রো সেবা চালু করা যায় না; আমাদের দাবি পূরণ না হলে আমরা আরও কঠোর পদক্ষেপ নেব।” সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে হতাশা ও উদ্বেগের মিশ্র অনুভূতি দেখা যায়; কিছুজন রাইড-শেয়ার ও বাসের মাধ্যমে বিকল্প পথ খুঁজে নেয়, আবার অন্যরা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে মেট্রো সেবা পুনরায় চালু হওয়ার আশায় থাকে।
দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন ও শহর প্রশাসন এখন জরুরি সমন্বয় সভা করে সমস্যার সমাধানে পদক্ষেপ নেয়ার পরিকল্পনা করেছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্মূল্যায়ন, ক্যামেরা ও পর্যবেক্ষণ সিস্টেমের আপগ্রেড, এবং কর্মচারীর কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত তহবিল বরাদ্দের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া, ভবিষ্যতে অনুরূপ প্রতিবাদ এড়াতে গোষ্ঠীর সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে সমঝোতা চুক্তি করার ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের মতে, পরবর্তী কয়েক দিনের মধ্যে সব বন্ধ স্টেশন ধীরে ধীরে পুনরায় চালু হবে এবং যাত্রীদের স্বাভাবিক সেবা পুনরুদ্ধার করা হবে।