শনি সন্ধ্যায় ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট বেনিয়ামিন নেটানিয়াহু গাদি আইজেনকটকে সরকার গঠনের দায়িত্ব অর্পণ করার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন। রোববার (আজ) আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্টের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হবে এবং আইজেনকটকে চলতি সংসদীয় মেয়াদে ৪০ দিনের মধ্যে একটি স্থিতিশীল কেবিনেট গঠন করতে হবে। এই ঘোষণাটি দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে উঠতে এবং সংসদীয় কার্যক্রম পুনরায় চালু করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আইজেনকট, যিনি পূর্বে কিবুৎসের এক বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশেষজ্ঞ, এখন দেশের শীর্ষ নির্বাহী গঠন প্রক্রিয়ার কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে সঙ্গে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সরকারের গঠন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও সময়সীমা নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
নেটানিয়াহু সরকারের পতনের পর থেকে ইসরায়েলে রাজনৈতিক অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হয়েছে। নেটানিয়াহু নিজেই ২০২১ সালের শেষের দিকে তার মেয়াদ শেষ করে অপ্রত্যাশিতভাবে পদত্যাগ করেন, ফলে সংসদে কোনো স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠ দল গঠন করতে ব্যর্থ হয়। এরপর থেকে বহুবারের কেবিনেট গঠন প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে, যার ফলে দেশের অভ্যন্তরে এবং বিদেশে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব অর্পণ একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ, যা সংসদে গঠনযোগ্য জোটের সন্ধানকে ত্বরান্বিত করতে এবং দেশের শাসনব্যবস্থাকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে লক্ষ্য রাখে।
আইজেনকটের দায়িত্ব গ্রহণের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে মন্তব্য শোনা গেছে। বামপন্থী শ্রমিক পার্টি ও ডানপন্থী লিকুদ উভয়ই আইজেনকটকে “জাতীয় ঐক্যের সেতু” হিসেবে উল্লেখ করে গঠন প্রক্রিয়ায় সমন্বয় ও সমঝোতার আহ্বান জানিয়েছে। তবে কিছু ছোট দল ও স্বাধীন সংসদ সদস্যরা নতুন কেবিনেটের নীতি দিকনির্দেশনা, বিশেষত নিরাপত্তা ও বসতি নীতি সম্পর্কে সতর্কতা প্রকাশ করেছে। সাধারণ জনগণও মিডিয়া মাধ্যমে সরকারের গঠনকে ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করছে; জরিপে দেখা যায় অধিকাংশ নাগরিক দ্রুত ও কার্যকরী সরকার গঠনের প্রত্যাশা প্রকাশ করেছে, যাতে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা যায়।
প্রেসিডেন্টের অফিস বর্তমানে আইজেনকটকে সমর্থনমূলক দলগুলির সঙ্গে পরামর্শের জন্য একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেছে এবং ৪০ দিনের সময়সীমা পূরণে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক সহায়তা প্রদান করবে। সংসদে গঠনযোগ্য জোটের তালিকা চূড়ান্ত করার জন্য একাধিক গোপনীয় সভা অনুষ্ঠিত হবে এবং সংশ্লিষ্ট দলগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে। যদি আইজেনকট নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকার গঠন করতে ব্যর্থ হন, তবে প্রেসিডেন্ট পুনরায় দায়িত্ব অন্য কোনো রাজনীতিবিদকে অর্পণ করতে পারেন অথবা নতুন নির্বাচন আহ্বান করার সম্ভাবনা উন্মুক্ত থাকবে। এই প্রক্রিয়ার সফলতা ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে তার কূটনৈতিক অবস্থানকে পুনরুজ্জীবিত করার মূল চাবিকাঠি হবে।