ইরানের তেহরান সরকার গতকাল এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সরাসরি হুঁশিয়ারি জানায় যে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ‘ইরান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার ঐতিহাসিক সুযোগ একবারই আসে’ এমন মন্তব্যের পরই ইরান নতুন নিরাপত্তা হুমকি প্রদান করেছে। পার্লামেন্ট নির্বাচন শেষ হওয়ায় ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে তেহরানের এই সতর্কতা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিবেশে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

ইরানের পার্লামেন্ট নির্বাচন শেষ হওয়া মাত্রই দেশের অভ্যন্তরে ক্ষমতা পুনর্বিন্যাসের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। পূর্বে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক প্রোগ্রাম ও অঞ্চলে তার প্রভাবকে নিয়ন্ত্রণের জন্য একাধিক কূটনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তদুপরি, গত কয়েক বছর ধরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সান্নিধ্যপূর্ণ নীতি পরিবর্তন, সান্ধ্য চুক্তি ও পুনরায় আলোচনা প্রচেষ্টা ব্যর্থতা ও অবিশ্বাসের চক্রে আটকে রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের নেতানিয়াহুর মন্তব্য ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গতি-প্রকৃতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হোসেন রেজা ইব্রাহিমি তেহরানের এই সতর্কতাকে ‘জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি আক্রমণাত্মক হুমকি’ বলে উল্লেখ করেন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ‘অবিলম্বে তাদের হুমকি প্রত্যাহার’ করার আহ্বান জানান। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্রও ইরানের মন্তব্যকে ‘অসঙ্গত ও অপ্রাসঙ্গিক’ বলে প্রত্যাখ্যান করে, তবে অঞ্চলের স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য কূটনৈতিক চ্যানেল চালু রাখার ইঙ্গিত দেন। ইসরায়েলের সরকারও নেতানিয়াহুর মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তেহরানের হুঁশিয়ারিকে ‘অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা’ হিসেবে চিহ্নিত করে, তবে ইরানের কোনো সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা সম্পর্কে সতর্কতা প্রকাশ করে। সাধারণ জনগণের মধ্যে এই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়ে প্রতিবাদ ও সমর্থন উভয়ই দেখা যাচ্ছে।

তেহরান সরকার ইতিমধ্যে ইরানের পারমাণবিক সুবিধা ও সামরিক ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তা বৃদ্ধি করার জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি, ইরান আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানাতে প্রস্তুত। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলও তাদের সামরিক উপস্থিতি ও গোয়েন্দা পর্যবেক্ষণ বাড়িয়ে তুলবে বলে জানিয়েছে, তবে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা হ্রাসের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে। ভবিষ্যতে ইরান-ইসরায়েল সম্পর্কের উন্নয়ন ও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামোকে পুনর্গঠন করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজনীয় বলে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন।