গত শনিবার রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চতুর্থ দফা হামলা সংঘটিত হয়, যা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে প্রাণঘাতী হিসেবে রেকর্ডে যুক্ত। সশস্ত্র আক্রমণকারীরা টার্গেটেড এলাকায় বিস্ফোরক ও স্বয়ংক্রিয় বন্দুক ব্যবহার করে একাধিক গুলিবিদ্ধ ও ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। জরুরি সেবা দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের ত্বরিত চিকিৎসা প্রদান করে, তবে ১৩ জনের মধ্যে ২ জন বাংলাদেশি নাগরিকসহ মোট ১৩ জনের প্রাণহানি ঘটে। আহতদের সংখ্যা এখনও বাড়তে পারে বলে প্রাথমিক তথ্য জানায় যে অতিরিক্ত কয়েকজন গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি। এই ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংস্থা সতর্কতা জারি করে।

রিয়াদ বিমানবন্দরে পূর্বে তিনটি সমানধর্মী হামলা ঘটেছে, যেগুলোই আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সক্রিয়তা বৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত। প্রথম তিনটি দফা প্রত্যেকটি কয়েক ঘণ্টা আগে ঘটলেও সেসবের মৃত্যুর হার তুলনামূলকভাবে কম ছিল। সাম্প্রতিক মাসে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে সশস্ত্র গোষ্ঠীর দ্বারা লক্ষ্যভেদী আক্রমণ বৃদ্ধি পেয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থার তীব্রতা প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। রিয়াদ বিমানবন্দর, যা আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্র, অতীতে কয়েকবার নিরাপত্তা লঙ্ঘনের শিকার হয়েছে, ফলে এই চতুর্থ দফা ঘটনার পটভূমি জটিল নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের সঙ্গে যুক্ত।

সৌদি অভ্যন্তরীণ মন্ত্রণালয় ঘটনাস্থলে জরুরি সমাবেশের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং তৎক্ষণাৎ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ উচ্চকমিশন রিয়াদের প্রতিনিধি দ্রুত দুঃখ প্রকাশ করে, আক্রান্ত বাংলাদেশি নাগরিকের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়ে কূটনৈতিক সহায়তা প্রদান করার প্রতিশ্রুতি জানান। স্থানীয় জনগণ শোকের ছায়া ছড়িয়ে দিয়েছে, সামাজিক মাধ্যমে শোকসূচক পোস্ট ও সমবেত প্রার্থনা চলমান। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও প্রতিবেশী দেশগুলোও এই রক্তপাতের নিন্দা করে, শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে সশস্ত্র আক্রমণকারীদের পরিচয় ও উদ্দেশ্য নির্ণয়ের জন্য বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে এবং বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৎক্ষণাৎ পুনর্বিবেচনা করা হবে। সৌদি সরকার বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে আহত বাংলাদেশি নাগরিকের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। ভবিষ্যতে বিমানবন্দরের প্রবেশদ্বার, প্রবেশ পরীক্ষা এলাকা ও কর্মীদের নিরাপত্তা নির্দেশনা কঠোরভাবে পুনর্গঠন করা হবে, পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে তথ্য শেয়ারিং বৃদ্ধি করা হবে। এই পদক্ষেপগুলো রিয়াদের নিরাপত্তা অবকাঠামোকে পুনরুজ্জীবিত করে, আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীর আস্থা পুনরুদ্ধার করার লক্ষ্যে গৃহীত।