বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গনে সম্প্রতি এক গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগ প্রকাশ পেয়েছে; বহুমাত্রিক ইনামুল হকের অভাব নাট্যকর্মের গুণগত মান ও সৃজনশীলতা হ্রাসের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ইনামুল হক, যিনি বহু দশক ধরে নাট্য রচয়িতা, পরিচালনা, অভিনয় ও নকশা ক্ষেত্রে সমন্বিত দক্ষতা প্রদর্শন করেছেন, তার অনুপস্থিতি নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য এক শূন্যস্থান তৈরি করেছে। এই শূন্যস্থানটি বিশেষত আধুনিক নাট্য প্রযোজনায় স্পষ্টভাবে অনুভূত হচ্ছে, যেখানে জটিল চরিত্র বিশ্লেষণ, বহুমাত্রিক মঞ্চ নকশা ও সামাজিক বাস্তবতা সংমিশ্রণ প্রয়োজন। আজকের এই প্রতিবেদনটি এই সমস্যার তাৎক্ষণিক গুরুত্ব ও সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্লেষণ করবে।
ইনামুল হকের নাট্যজগতে উত্থান ১৯৭০-এর দশকে শুরু হয়; তিনি তৎকালীন নাট্য আন্দোলনের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেন। তার রচনায় ঐতিহ্যবাহী লোকসাহিত্যের গভীরতা ও সমসাময়িক সামাজিক সমস্যার সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি একত্রিত হয়েছে। পরিচালনায় তিনি মঞ্চের স্থানিক ব্যবহার, আলো-ছায়ার খেলা ও সঙ্গীতের সমন্বয়কে নতুন মাত্রা প্রদান করেন, যা নাট্যশিল্পে এক নতুন মানদণ্ড স্থাপন করে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তার স্বাস্থ্যের অবনতি ও বয়সজনিত সীমাবদ্ধতার ফলে তিনি সক্রিয়ভাবে কাজ থেকে সরে গেছেন, ফলে তার বহুমাত্রিক দক্ষতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
নাট্য সমিতি, স্বাধীন নাট্যকার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার বিভাগ থেকে একাধিক মতামত প্রকাশ পেয়েছে। ঢাকা নাট্য সমিতির সভাপতি উল্লেখ করেন, “ইনামুল হকের বহুমাত্রিক দক্ষতা আমাদের নাট্যশিক্ষা ও প্রযোজনার মেরুদণ্ড ছিল; তার অনুপস্থিতি নতুন নাট্যকর্মের গুণগত মানে ফাঁক তৈরি করেছে।” একই সঙ্গে, তরুণ নাট্যকাররা জানান, “আমরা এখনো এমন একজন মেন্টর পাইনি, যিনি রচনা, পরিচালনা ও নকশা একসাথে শিখিয়ে দিতে পারেন।” দর্শকগণও লক্ষ্য করেছেন, সাম্প্রতিক নাট্যপ্রদর্শনীতে চরিত্রের গভীরতা ও মঞ্চের সৃজনশীলতা পূর্বের তুলনায় কম অনুভূত হয়েছে, যা নাট্যাঙ্গনের জনপ্রিয়তা ও টিকিয়ে রাখার ক্ষমতায় প্রভাব ফেলছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও নাট্য সংস্থাগুলি সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে। মন্ত্রণালয় আগামী ত্রৈমাসিকে ‘বহুমাত্রিক নাট্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’ স্থাপন করবে, যেখানে অভিজ্ঞ নাট্যকার, নকশাবিদ ও সঙ্গীতজ্ঞ একত্রে কর্মশালা পরিচালনা করবেন। পাশাপাশি, ইনামুল হকের কাজের সংরক্ষণ ও গবেষণার জন্য একটি ডিজিটাল আর্কাইভ গঠন করা হবে, যাতে তার পদ্ধতি ও দৃষ্টিভঙ্গি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সহজলভ্য হয়। নাট্য সমিতিগুলোও তরুণ শিল্পীদের জন্য মেন্টরশিপ প্রোগ্রাম চালু করবে, যা বহুমাত্রিক দক্ষতা বিকাশে সহায়তা করবে। এই উদ্যোগগুলো যদি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে নাট্যাঙ্গনে বহুমাত্রিক ইনামুল হকের অভাব পূরণ হয়ে দেশের সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধি নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।