বাংলাদেশ ফুটবল দল সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিক গোলের ঘাটতি থেকে বের হতে জাতীয় ফুটবল সমিতি (বিএফএ) মোরছালিনকে পুনরায় দলভুক্ত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। মোরছালিন, যিনি পূর্বে জাতীয় দলের শীর্ষ স্কোরার হিসেবে পরিচিত, তার অভাবের ফলে দলের আক্রমণাত্মক ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে। আসন্ন এশিয়া কাপ কোয়ালিফায়ার এবং সাউদার্ন এশিয়া ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের প্রস্তুতির সময় এই পদক্ষেপটি তাত্ক্ষণিকভাবে দলের গোলসংখ্যা বাড়াতে লক্ষ্যবস্তু। সমিতির মুখপাত্রের মতে, মোরছালিনের অভিজ্ঞতা ও শুটিং দক্ষতা বর্তমান সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

মোরছালিনের জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তনের পেছনে বহু বছরব্যাপী পটভূমি রয়েছে। ২০১৯ সালে তিনি প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের শীর্ষ গোলদাতা হন এবং তিন বছর ধারাবাহিকভাবে দলের গোলের অর্ধেকের বেশি দায়িত্বে ছিলেন। তবে ২০২২ সালে দীর্ঘস্থায়ী পেশী আঘাতের কারণে তিনি বিদেশি ক্লাবে স্থানান্তরিত হয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে অনুপস্থিত ছিলেন। তার অনুপস্থিতিতে দলটি ধারাবাহিকভাবে গোলের সমস্যার সম্মুখীন হয় এবং শেষ দুই ম্যাচে শূন্য গোলের পরাজয় মুখোমুখি হয়। অতএব, সমিতি মোরছালিনের শারীরিক স্বাস্থ্যের পূর্ণ পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করার পরই তাকে পুনরায় দলভুক্ত করার পরিকল্পনা করেছে।

দলীয় কোচ শ্রীমন্ত দত্ত মোরছালিনের প্রত্যাবর্তনকে ‘গোলের সমস্যার সমাধানের মূল চাবিকাঠি’ বলে উল্লেখ করে দলের আক্রমণাত্মক কৌশল পুনর্গঠন করবেন বলে জানিয়েছেন। সমিতির সভাপতি মুহাম্মদ রশিদ আহমেদও মোরছালিনের অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের গুণকে ‘দলকে নতুন উদ্যমে চালিত করবে’ বলে প্রশংসা করেছেন। মোরছালিন নিজে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন যে তিনি শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ এবং দেশের গৌরব বাড়াতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করবেন। ভক্তদের মধ্যে মোরছালিনের প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানিয়ে অনলাইন আলোচনা গরম হয়ে উঠেছে; বেশিরভাগই আশা প্রকাশ করছেন যে তিনি দ্রুত গোলের ঝড় তুলবেন।

প্রতিষ্ঠানিকভাবে, সমিতি একটি বিশেষ নির্বাচন কমিটি গঠন করে মোরছালিনের ফিটনেস টেস্ট এবং প্রশিক্ষণ সেশন নির্ধারণ করেছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে তিনি জাতীয় দলের প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশগ্রহণ করবেন এবং কোচিং স্টাফের সঙ্গে সমন্বয় করে নতুন আক্রমণাত্মক পরিকল্পনা তৈরি করবেন। এছাড়া, সমিতি তরুণ খেলোয়াড়দের উন্নয়ন প্রকল্পে মোরছালিনকে পরামর্শদাতা হিসেবে যুক্ত করার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের গোলদাতা গড়ে তোলা যায়। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সমিতি আশা করে যে দলটি শীঘ্রই গোলের ঘাটতি দূর করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান পুনরুদ্ধার করবে।