যুক্তরাষ্ট্র ও গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে একত্রে পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, সাপ ও পোকামাকড়ের প্রতি ভয় এবং প্রকৃতির প্রতি আকর্ষণ দুটি স্বতন্ত্র মনস্তাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য। ২৯৫ শিশুর ওপর সমীক্ষা চালিয়ে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করেছেন যে, কোনো প্রাণীর প্রতি স্বাভাবিক ভয় থাকা মানেই শিশুরা প্রকৃতির প্রতি অনাগ্রহী নয়; বরং ভয়কে সঠিকভাবে পরিচালনা করলে পরিবেশের প্রতি গভীর আগ্রহ গড়ে ওঠে। এই ফলাফল শিক্ষাব্যবস্থা ও পরিবেশ সংরক্ষণ নীতিতে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগাবে বলে বিশেষজ্ঞরা আশাবাদ প্রকাশ করেছেন।

গবেষণাটি দুইটি ভিন্ন ভৌগোলিক অঞ্চলে, শহুরে ও গ্রামীণ পরিবেশে সমানভাবে পরিচালিত হয়। মোট ২৯৫ শিশুকে বয়স, লিঙ্গ ও সামাজিক পটভূমি অনুযায়ী সমানভাবে ভাগ করে, সাপ ও পোকামাকড়ের ছবি দেখিয়ে তাদের ভয় ও আকর্ষণের মাত্রা মাপা হয়। পাশাপাশি, প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদান যেমন গাছ, নদী ও পাখির সঙ্গে তাদের সংযোগের স্তরও মূল্যায়ন করা হয়। ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভয় ও আকর্ষণ একে অপরের সঙ্গে সরাসরি বিরোধী নয়, বরং পারস্পরিক প্রভাবশালী।

গবেষণার প্রধান বিজ্ঞানী ড. রাহুল চৌধুরী উল্লেখ করেন, “শিশুরা যখন সাপের ছবি দেখে ভয় পায়, তখন তারা স্বাভাবিকভাবে নিরাপত্তা ও সুরক্ষার প্রতি মনোযোগী হয়; এই মনোযোগকে সঠিক দিকনির্দেশে চালিত করলে প্রকৃতির প্রতি তাদের কৌতুহল বাড়ে।” অভিভাবকরা জানিয়ে বলেন, গবেষণার পর তাদের সন্তানদের সঙ্গে প্রকৃতিতে হাঁটা ও প্রাণী পর্যবেক্ষণের সুযোগ বাড়িয়ে দিয়েছেন। শিক্ষকদেরও এই ফলাফলকে কাজে লাগিয়ে শ্রেণিকক্ষে প্রাণী সংরক্ষণ ও পরিবেশ শিক্ষার নতুন পদ্ধতি গ্রহণের পরিকল্পনা করছেন।

অধিকাংশ শিক্ষা মন্ত্রণালয় এখন এই গবেষণার ফলাফলকে ভিত্তি করে পাঠ্যক্রমে ‘প্রাণী ভয় ব্যবস্থাপনা’ ও ‘প্রকৃতি প্রেম’ বিষয় যুক্ত করার প্রস্তাব দিচ্ছে। পাশাপাশি, পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থাগুলো শিশুরা যেন নিরাপদে প্রাণী পর্যবেক্ষণ করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে নিরাপদ পার্ক ও শিক্ষামূলক কেন্দ্র স্থাপন করার পরিকল্পনা করেছে। ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত গবেষণার মাধ্যমে ভয় ও আকর্ষণের সম্পর্ক বিশ্লেষণ করে, দেশের শিক্ষানীতি ও পরিবেশ নীতিতে সমন্বিত পরিবর্তন আনা হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।