বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়‑সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সর্বশেষ বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের উড়োজাহাজ ক্রয় পরিকল্পনা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তোলা হয়। কমিটি সদস্যরা জোর দিয়ে জিজ্ঞেস করেন, উড়োজাহাজের চুক্তি স্বাক্ষরের পূর্বে কোনো সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, আর্থিক বিশ্লেষণ বা ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হয়েছে কি না। প্রশ্নের মূল উদ্দেশ্য হল, রাষ্ট্রের বাজেটের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যৎ বিমান চলাচল নীতি প্রণয়নে স্বচ্ছতা বজায় রাখা। এই আলোচনার তাৎক্ষণিক গুরুত্ব দেশের বিমান শিল্পের উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষায় রয়েছে।

গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশে বেসামরিক উড়োজাহাজের আধুনিকীকরণে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০১৯ সালে প্রথমবারের মতো নতুন জেটের ক্রয় পরিকল্পনা ঘোষিত হলেও, সংশ্লিষ্ট সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রকাশ্যে না থাকায় বিরোধিতা ও সমালোচনা তীব্র হয়। পরবর্তী সময়ে কিছু অস্থায়ী চুক্তি সম্পন্ন হলেও, সেগুলোর আর্থিক দিক ও পরিচালনাগত প্রভাব সম্পূর্ণভাবে বিশ্লেষণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠে। এই পটভূমিতে বর্তমান কমিটি বৈঠকটি বিশেষ গুরুত্ব পায়, কারণ এটি পূর্বের ঘাটতিগুলো পুনরায় পর্যালোচনা করে ভবিষ্যৎ ক্রয় প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় কাঠামো গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি করে।

কমিটি সদস্যদের বক্তব্যে স্পষ্ট দেখা যায়, অধিকাংশই মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে স্পষ্ট উত্তর চায়। এক সদস্য উল্লেখ করেন, “যদি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা না করা হয়ে থাকে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে একটি স্বতন্ত্র সংস্থা দ্বারা সম্পূর্ণ বিশ্লেষণ করা উচিত।” মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়, “প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু প্রাথমিক সমীক্ষা চালু আছে, তবে তা প্রকাশের জন্য যথাযথ অনুমোদন প্রয়োজন।” বিরোধী দলও এই বিষয়টি ব্যবহার করে সরকারের আর্থিক স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা প্রশ্নবিদ্ধ করে। বিশেষজ্ঞরা যুক্তি দেন, আন্তর্জাতিক মানের উড়োজাহাজ ক্রয়ের জন্য কঠোর আর্থিক পরিকল্পনা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা অপরিহার্য, না হলে ভবিষ্যতে অতিরিক্ত ব্যয় ও পরিচালনাগত সমস্যার মুখোমুখি হতে হতে পারে। সাধারণ জনগণও এই আলোচনাকে গুরুত্বের সঙ্গে অনুসরণ করছে, কারণ বিমান টিকিটের দাম ও সেবা মান সরাসরি এই নীতির ওপর নির্ভরশীল।

কমিটির প্রশ্নের পর মন্ত্রণালয় দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি জানায়। তারা বলছে, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রস্তুত করে সংসদীয় কমিটিতে উপস্থাপন করা হবে। এছাড়া, স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের অডিট সংস্থা নিয়োগ করে ক্রয় প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। ভবিষ্যতে উড়োজাহাজ ক্রয় সংক্রান্ত সকল চুক্তি পূর্বে নির্ধারিত মানদণ্ডের ভিত্তিতে অনুমোদিত হবে, এবং সংশ্লিষ্ট নীতিমালা সংশোধন করে দীর্ঘমেয়াদী বিমান নেটওয়ার্কের পরিকল্পনা তৈরি করা হবে। এই পদক্ষেপগুলো দেশের বিমান শিল্পের টেকসই উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা এবং নাগরিকদের নিরাপদ ও সাশ্রয়ী ভ্রমণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গৃহীত।