ঢাকার এক মিডিয়া হাউসের প্রতিবেদন অনুসারে, মাত্র দশ বছর বয়সী রাহিম হোসেন এখন ১০০ কোটি টাকার সম্পদের মালিক হিসেবে পরিচিত হয়েছে। তার সম্পদ মূলত তার বাবা-মা প্রতিষ্ঠা করা রিয়েল এস্টেট ও শেয়ার বাজারের বিনিয়োগ থেকে এসেছে, যা সাম্প্রতিক আর্থিক হিসাবের ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে। এই ঘটনা জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনার সূত্রপাত করেছে, কারণ শিশুর অধিকার ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত আইনগত কাঠামোতে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। তৎক্ষণাৎ বিভিন্ন সামাজিক সংস্থা ও নীতিনির্ধারক সংস্থা এই বিষয়টি বিশ্লেষণ শুরু করেছে।

রাহিমের বাবা, হাবিবুল হোসেন, গত দশকে দেশের অন্যতম বৃহৎ রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং বহু উচ্চমূল্যের প্রকল্পে অংশগ্রহণ করেছেন। অতীতে হাবিবুলের ব্যবসা কিছু আর্থিক বিরোধে জড়িত ছিল, তবে শেষের দিকে তিনি তার ব্যবসা স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা বাড়াতে নানা সংস্কার চালু করেন। রাহিমের ছোটবেলায় তার অভিনয় ক্যারিয়ার শুরু হয়, তবে প্রথমদিকে সমালোচনার মুখে পড়ে; তার পারফরম্যান্সকে অপ্রাপ্তবয়স্কের অতিরিক্ত প্রচার হিসেবে দেখা হতো। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি পেশাদার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে নাট্য ও টেলিভিশন শিল্পে স্বীকৃতি অর্জন করেছেন।

রাহিমের মা, ফাতেমা বেগম, প্রকাশ্যে বলছেন যে, শিশুর সম্পদ সুরক্ষার জন্য একটি ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করা হয়েছে এবং সব আর্থিক লেনদেন স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হবে। শিশু অধিকার সংস্থার প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম উল্লেখ করেছেন যে, এমন বড় সম্পদ শিশুর মানসিক ও সামাজিক বিকাশে প্রভাব ফেলতে পারে এবং যথাযথ তত্ত্বাবধান প্রয়োজন। সাধারণ জনগণের মধ্যে এই সম্পদের বণ্টন ও ন্যায়বিচার নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে; কেউ কেউ এটিকে সফল উদাহরণ হিসেবে প্রশংসা করেন, আবার কেউ কেউ শিশুর অতিরিক্ত সম্পদকে সামাজিক বৈষম্যের উদাহরণ হিসেবে সমালোচনা করেন।

অর্থ মন্ত্রণালয় ও শিশু কল্যাণ বিভাগ একত্রে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে রাহিমের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা পর্যালোচনা করছে। কমিটি প্রস্তাব করেছে যে, শিশুর সম্পদকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক দায়িত্বের জন্য নির্দিষ্ট অংশে বরাদ্দ করা হবে এবং অবশিষ্ট অংশে পেশাদার তহবিল ব্যবস্থাপকের তত্ত্বাবধানে থাকবে। এছাড়া, সরকার শিশু সম্পদ সংক্রান্ত আইন সংস্কার করে ট্রাস্ট ফান্ডের স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের সম্পদ সংরক্ষণে নীতি নির্ধারণে আরও কঠোর নিয়মাবলী প্রয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে।